রাঙামাটিতে পিসিসিপি’র লিডারশিপ ট্রেনিং: বৈষম্য নিরসনে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান

রাঙামাটিতে পিসিসিপি’র লিডারশিপ ট্রেনিং: বৈষম্য নিরসনে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান

রাঙামাটিতে পিসিসিপি’র লিডারশিপ ট্রেনিং: বৈষম্য নিরসনে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পার্বত্য চট্টগ্রামে বৈষম্য নিরসন ও শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্যে রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) রাঙামাটি জেলা শাখার উদ্যোগে ‘লিডারশিপ ট্রেনিং’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২ মে) দুপুরে রাঙামাটি প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণে জেলার ১০টি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মো. হাবীব আজম।

অনুষ্ঠানে নেতৃত্বের গুণাবলি, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন পিসিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার, পিসিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আহমেদ রাজু, রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক, শিক্ষাবিদ জামাল উদ্দিন, আইনজীবী অ্যাডভোকেট হারুনুর রশীদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. নূর হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট জনসংখ্যার ৫২.০৬ শতাংশ বাঙালি হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় ও আঞ্চলিক নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাঙালিরা। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির পর একটি বিশেষ গোষ্ঠী অধিকাংশ সুবিধা ভোগ করলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী পিছিয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।

রাঙামাটিতে পিসিসিপি’র লিডারশিপ ট্রেনিং: বৈষম্য নিরসনে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান

শিক্ষা ও চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার বিষয়টি উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, ১৯৮৪ সাল থেকে উপজাতিদের জন্য বিশেষ কোটা চালু থাকলেও একই অঞ্চলের অনগ্রসর বাঙালি শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট কোটা নেই। প্রতি বছর প্রায় ৩২৫ জন উপজাতি শিক্ষার্থী বিশেষ সুবিধায় উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পেলেও বাঙালি শিক্ষার্থীরা সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।

এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা পরিষদের শিক্ষাবৃত্তি বণ্টনেও বৈষম্যের অভিযোগ তুলে বক্তারা জানান, মোট জনসংখ্যার ৫২ শতাংশ হওয়া সত্ত্বেও বাঙালিদের জন্য মাত্র ২৩ শতাংশ বৃত্তি বরাদ্দ রাখা হয়, যা সমতার নীতির পরিপন্থী।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি কুচক্রী মহল পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা দাবি করেন, জেএসএস, ইউপিডিএফ ও কেএনএফ-এর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাহাড়ে হত্যা, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।

বক্তারা আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের বাঙালিরা বর্তমানে ‘তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক’-এ পরিণত হয়েছে এবং এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ একটি দেশপ্রেমিক ছাত্র সংগঠন হিসেবে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।

পাহাড়ের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই আন্দোলনের চেতনা ছড়িয়ে দিতে এবং জনসংখ্যার অনুপাতে সকল ক্ষেত্রে সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে এ ধরনের নেতৃত্ব বিকাশ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *