পানছড়িতে দুই পাহাড়িকে মারধরের অভিযোগ: ভুক্তভোগীদের বক্তব্যে উঠে এলো সিএইচটি নিউজের মিথ্যাচার

পানছড়িতে দুই পাহাড়িকে মারধরের অভিযোগ: ভুক্তভোগীদের বক্তব্যে উঠে এলো সিএইচটি নিউজের মিথ্যাচার

পানছড়িতে দুই পাহাড়িকে মারধরের অভিযোগ: ভুক্তভোগীদের বক্তব্যে উঠে এলো সিএইচটি নিউজের মিথ্যাচার
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়ি উপজেলার নীলাধন পাড়ায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে দোকানদার কিরণ ত্রিপুরা (৬৫) ও তার ছেলে অরুণ উদয় ত্রিপুরাকে (৩০) মারধরের অভিযোগ নিয়ে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফের অনিবন্ধিত ব্লগভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে সরেজমিনে ভুক্তভোগী হিসেবে উল্লেখিত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং স্থানীয় পর্যবেক্ষণ উক্ত অভিযোগকে সরাসরি অস্বীকার করেছে, ফলে পুরো ঘটনাটির সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগে বলা হয়, আজ রবিবার সকালে পানছড়ি সাবজোন থেকে সেনা সদস্যদের একটি দল নীলাধন পাড়ায় গিয়ে দোকানদার কিরণ ত্রিপুরা ও তার ছেলের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। তবে এই দাবির বিপরীতে কিরণ ত্রিপুরা ও তার ছেলে অরুণ উদয় ত্রিপুরা সরাসরি জানান, এমন কোনো ঘটনারই বাস্তবতা নেই।

সাউথইস্ট এশিয়া জার্নাল এর পক্ষ হতে পিতা ও পুত্রের সাথে আলাদা ভাবে যোগাযোগ করা হলে তারা স্পষ্টভাবে বলেন, সকালে সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল কার্যক্রম পাড়ায় গিয়েছিল। কিন্তু দোকানে গিয়ে মোবাইল কেড়ে নেওয়া, জিজ্ঞাসাবাদ বা মারধরের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাদের ভাষায়, “সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে নিরাপত্তার জন্য টহল দেয়, কিন্তু আমাদের সাথে কোনো অসদাচরণ হয়নি।”

স্থানীয় সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যেও একই ধরনের তথ্য উঠে এসেছে। এলাকাবাসী জানান, সেনা টহল ছিল স্বাভাবিক এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে তাদের উপস্থিতি ছিল রুটিন কার্যক্রমের মতোই। অভিযোগে যে ধরনের ঘটনাপ্রবাহ উপস্থাপন করা হয়েছে, তার সাথে বাস্তব অবস্থার কোনো মিল পাওয়া যায়নি বলেও তারা দাবি করেন।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে, সেনা সদস্যরা “ইউপিডিএফের লোকজন কোথায় গেছে” এমন প্রশ্ন করে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। তবে ভুক্তভোগী হিসেবে উল্লেখিত ব্যক্তিদের বক্তব্য এই দাবিকে সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দেয়। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, একটি নিরাপত্তা বাহিনীকে জড়িয়ে এমন গুরুতর অভিযোগের ভিত্তি কী?

খাগড়াছড়িতে দীর্ঘ দেড় যুগের বেশী সময় ধরে সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত একজন প্রবীন সাংবাদিক জানান, সংঘাতপূর্ণ ও সংবেদনশীল পার্বত্য অঞ্চলে যেকোনো ঘটনার ক্ষেত্রে যাচাইবিহীন তথ্য ও একপাক্ষিক বর্ণনা দ্রুত বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে। বিশেষ করে নাম-পরিচয়বিহীন বা অনিবন্ধিত প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রকাশিত তথ্যের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও সত্যতা যাচাই অত্যন্ত জরুরি।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইউপিডিএফের অপপ্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত ব্লগ প্ল্যাটফর্মটি অতীতেও বিভিন্ন সময় নিরাপত্তা বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে একাধিক বিতর্কিত দাবি প্রকাশ করেছে। তবে সেসব দাবির ক্ষেত্রে স্বাধীন উৎস বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আজকের ঘটনাতেও ভুক্তভোগীদের সরাসরি অস্বীকার এবং স্বাভাবিক টহল কার্যক্রমের ব্যাখ্যা অভিযোগের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এ ধরনের প্রতিবেদন কি বাস্তব অনুসন্ধানের ফল, নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান তৈরির অংশ?

পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে অপতথ্য ছড়ালে তা শুধু প্রশাসনিক বিভ্রান্তিই তৈরি করে না, বরং স্থানীয় জনগণের মধ্যেও অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক ও অবিশ্বাসের পরিবেশ সৃষ্টি করে। তাই যেকোনো ঘটনার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা, তথ্য যাচাই এবং নিরপেক্ষ সূত্রের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশ এখন সময়ের দাবি।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *