‘মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণার পর হালদায় নতুন প্রাণ: উজানে খাল খননে ফিরছে স্রোত
![]()
নিউজ ডেস্ক
দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীকে ‘মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণার পর এর অস্তিত্ব রক্ষায় শুরু হয়েছে নতুন কর্মযজ্ঞ। নদীর প্রাণ ফিরিয়ে আনতে এবং স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে উজানে চলছে ব্যাপক খাল খনন কার্যক্রম, যা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে হালদার উজান সালদা অংশে ৪৭৬ জন শ্রমিক নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় ইতোমধ্যে লেভেলিং, ড্রেসিং ও ঘাসের চাপড়া লাগানোর কাজ দৃশ্যমান হয়েছে। অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত এই উদ্যোগ এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে খননকাজ পরিদর্শন করেন খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাজী মাসুদুর রহমান এবং তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান। তারা কাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের হাসুক পাড়ার একটি ঝিরি থেকে হালদা নদীর উৎপত্তি। এরপর এটি মানিকছড়ি হয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, রাউজান ও হাটহাজারী অতিক্রম করে কর্ণফুলী নদীতে মিলিত হয়েছে। প্রায় ৯৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদী ও এর তীরবর্তী অঞ্চলকে ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর সরকার ‘মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করে।
গেজেট প্রকাশের পর নদীর শাখা-প্রশাখায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সেই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচির আওতায় হালদাকে অন্তর্ভুক্ত করে গত ২৭ এপ্রিল খননকাজ শুরু করা হয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাজী মাসুদুর রহমান জানান, ৪৩ দিনের এই কর্মসূচিতে প্রাথমিকভাবে ৫ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে শ্রমিকদের কর্মতৎপরতা দেখে নির্ধারিত সময় ও বরাদ্দের মধ্যেই আরও বেশি এলাকা খনন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো মরা খাল পুনরুদ্ধার করে মাছের অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করা।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে মানিকছড়ি অংশের প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার এলাকা পাহাড়ি পলিতে ভরাট হয়ে পড়ায় হালদা নদীর প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছিল। বর্তমানে সেই পলি অপসারণ করে পানির স্বাভাবিক ধারা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা নদীর প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষমতা পুনরুজ্জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রসঙ্গত, সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন—এই খনন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে হালদা নদী আবারও তার প্রাকৃতিক রূপ ও জীববৈচিত্র্য ফিরে পাবে, যা দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় একটি মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।