খুলছে ইস্টার্ন রিফাইনারি, আসছে একের পর এক তেলের জাহাজ
![]()
নিউজ ডেস্ক
কাঁচামাল বা ক্রুড অয়েলের (অপরিশোধিত জ্বালানি তেল) সংকটে বন্ধ হয়ে যাওয়া দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি অবশেষে ২২ দিন পর পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আলোচিত হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল নিয়ে ‘এমটি নাইনমিয়া’ নামের একটি ট্যাংকার মঙ্গলবার (৫ মে) মধ্যরাতে বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছেছে। জাহাজটি বর্তমানে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া পয়েন্টে নোঙর করে আছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৭ মে থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারি পূর্ণোদ্যমে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে এবার আমদানির ক্ষেত্রে ভিন্ন কৌশল নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। হরমুজ প্রণালীর ঝুঁকি এড়াতে লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এই তেল লোড করা হয়। বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) ভাড়া করা ট্যাংকার এমটি নাইনমিয়া গত ২০ এপ্রিল ইয়ানবু বন্দরে ভেড়ে এবং ২১ এপ্রিল চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
বিএসসি-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা সৌদি আরবের ইয়ানবু থেকে এক লাখ টনের কার্গো লোড করেছি। আশা করছি আগামী ৯ থেকে ১০ দিনের মধ্যে তেল খালাসের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।’
কুতুবদিয়া পয়েন্টে জাহাজটি পৌঁছানোর পর বিপিসি কর্মকর্তারা তেলের মান ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেন। এরপর শুরু হয়েছে ‘লাইটারিং’ বা বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে তেল স্থানান্তরের কাজ। মোট ৮টি লাইটার জাহাজের মাধ্যমে এই তেল চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা সংলগ্ন ডলফিন জেটিতে আনা হবে। সেখান থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পৌঁছাবে ইস্টার্ন রিফাইনারির স্টোরেজ ট্যাংকে।
পর্যাপ্ত ক্রুড অয়েল না থাকায় গত ১৪ এপ্রিল ইস্টার্ন রিফাইনারির তিনটি ইউনিটের মধ্যে দুটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এই দুটি ইউনিটে প্রতিদিন ৪ হাজার মেট্রিক টনের বেশি ১৩ ধরনের জ্বালানি তেল (অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল, ফার্নেস অয়েল ইত্যাদি) পরিশোধিত হতো। বিপিসি জানায়, বর্তমানে আসা ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল থেকে ২৬ হাজার টন ডিজেল, ২৪ হাজার টন ফার্নেস অয়েল, ১৬ হাজার টন পেট্রোল, ২১ হাজার টন কেরোসিন এবং ৮ হাজার মেট্রিক টন অকটেন পাওয়া যাবে।
ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম বলেন, ‘এখন যে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল এসেছে, তা দিয়ে বড়জোর ২৫ দিন শোধনাগারটি চলতে পারবে। এর মধ্যেই পরবর্তী চালানের ব্যবস্থা করতে হবে।’
তবে আশার কথা হলো, মে মাসের ১০ তারিখে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে আরও এক লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল লোড হওয়ার কথা রয়েছে। গালফ অঞ্চলের অস্থিরতা এড়াতে এই বন্দরটিও বেছে নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৫ মে এই জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বিএসসি-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও নিশ্চিত করেন যে, আরব আমিরাতের এই চালানটিও গালফ বা হরমুজ প্রণালীর বাইরে হওয়ায় ইরান যুদ্ধের কোনো প্রভাব এখানে পড়বে না।
গত ২২ দিন প্রধান দুটি ইউনিট বন্ধ থাকলেও ইস্টার্ন রিফাইনারির ৩ নম্বর ইউনিটটি চালু ছিল। তবে সেখানে শুধু সীমিত আকারে বিটুমিন, পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদিত হতো। রিফাইনারি বন্ধ থাকাকালীন দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিপিসি সরাসরি ‘ফিনিশড অয়েল’ বা পরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করেছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।