কাপ্তাই হ্রদে পোনা অবমুক্ত ও জেলেদের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ

কাপ্তাই হ্রদে পোনা অবমুক্ত ও জেলেদের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ

কাপ্তাই হ্রদে পোনা অবমুক্ত ও জেলেদের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

রাঙামাটিতে কাপ্তাই হ্রদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং মৎস্যজীবীদের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র এবং বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন-এর চেয়ারম্যান ইমাম উদ্দিন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে জেলেদের পক্ষ থেকে ভিজিএফ চালের বরাদ্দ ২০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৪০ কেজি করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বন্ধকালীন সময়ে সুদমুক্ত ঋণ ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান জানান তারা।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বন্ধকালীন সময়ে আরও বেশি কার্পজাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত, অবৈধ মাছ শিকার রোধে কোস্ট গার্ড নিয়োগ এবং হ্রদের মাছ রপ্তানির ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

নৌ-পুলিশ চট্টগ্রাম অঞ্চলের পুলিশ সুপার বি এম নুরুজ্জামান বলেন, বন্ধকালীন সময়ে পুরো হ্রদে নজরদারির জন্য আটটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। তবে এত বড় জলাধারে নজরদারি নিশ্চিত করতে জনগণের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র জানান, একসময় কাপ্তাই হ্রদে প্রায় ৯০ শতাংশ কার্পজাতীয় মাছ পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা এক শতাংশে নেমে এসেছে, যা উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্রগুলো পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। এসব ক্ষেত্র পুনরুদ্ধারে ড্রেজিং কার্যক্রম জরুরি।

মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, অভয়াশ্রমে অবৈধ মাছ শিকারের কারণে কার্পজাতীয় মাছ কমে যাচ্ছে। এ সমস্যা মোকাবেলায় অভয়াশ্রম বৃদ্ধি, কোস্ট গার্ড মোতায়েন এবং দূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি অবৈধ মাছ শিকার বন্ধে মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জেলেদের উদ্দেশে বলেন, মাছের প্রজনন ও বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে অন্তত তিন মাস মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে হবে। তিনি জানান, জেলেদের কৃষক কার্ডের আওতায় এনে ঋণ সুবিধা প্রদানসহ বিভিন্ন সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া কাপ্তাই হ্রদের মাছ রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, হ্রদ দূষণমুক্ত রাখতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। পর্যটন সংশ্লিষ্টদেরও এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে চিংড়ি উৎপাদন বাড়িয়ে বৈদেশিক আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।