দুঃসাহসিক নির্মাণযজ্ঞে পাহাড় জয়ের গল্প: দুর্গম মদকে প্রথমবার পৌঁছালো সেনাবাহিনীর ডোজার

দুঃসাহসিক নির্মাণযজ্ঞে পাহাড় জয়ের গল্প: দুর্গম মদকে প্রথমবার পৌঁছালো সেনাবাহিনীর ডোজার

দুঃসাহসিক নির্মাণযজ্ঞে পাহাড় জয়ের গল্প: দুর্গম মদকে প্রথমবার পৌঁছালো সেনাবাহিনীর ডোজার
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দুর্গম পাহাড়ি জনপদ মদকে নতুন সম্ভাবনার এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকা এই দুর্গম অঞ্চলে এবার প্রথমবারের মতো সড়কপথে পৌঁছেছে সেনাবাহিনীর ভারী প্রকৌশল যান—একটি ডোজার। এর মধ্য দিয়ে পাহাড় জয়ের আরেক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার্স কোর।

থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীন ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় দুর্গম পাহাড় চিরে এই সড়কপথ মদক পর্যন্ত পৌঁছেছে। দীর্ঘ ৯৮ কিলোমিটার এই সড়কটি থানচি থেকে শুরু হয়ে সীমান্তঘেঁষা দুর্গম পর্বতমালা অতিক্রম করে বাংলাদেশের অন্যতম উচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং, সাকা হাফং, জোত্লাং ও যোগী হাফংয়ের বুক চিরে এখন মদকে পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে এটি সীমান্ত সড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দুঃসাহসিক নির্মাণযজ্ঞে পাহাড় জয়ের গল্প: দুর্গম মদকে প্রথমবার পৌঁছালো সেনাবাহিনীর ডোজার

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মদকের প্রায় ৪৫০ পরিবার যুগ যুগ ধরে শুধুমাত্র সাঙ্গু নদীপথের ওপর নির্ভর করে যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছিল। আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে এখানকার মানুষের জীবন ছিল বিচ্ছিন্ন ও কষ্টসাধ্য। সেই বাস্তবতায় সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের কাছে যেন স্বপ্নপূরণের মতো।

প্রথমবারের মতো নিজেদের জনপদে ডোজারের মতো ভারী প্রকৌশল যান দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকেই জানান, জীবনে এই প্রথম তারা এত বড় ইঞ্জিনিয়ারিং যানবাহন কাছ থেকে দেখলেন। পাহাড়ের বুক চিরে নির্মিত এই সড়ক শুধু যোগাযোগের নতুন দ্বারই খুলে দেয়নি, বরং দুর্গম জনপদের মানুষের মাঝে উন্নয়ন, আশা ও আত্মবিশ্বাসের নতুন আলো জ্বালিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এই সড়ক নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রতিনিয়ত জীবনঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়েছে। খাড়া পাহাড়, প্রতিকূল আবহাওয়া, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং সীমান্তঘেঁষা দুর্গম পরিবেশেও তারা নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে গেছেন। “দুর্গম পাহাড়ে আমারই প্রথম অভিযাত্রিক”—এই মূলমন্ত্র ধারণ করে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার্স কোরের সদস্যরা দেশের সবচেয়ে কঠিন ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে যে সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

দুঃসাহসিক নির্মাণযজ্ঞে পাহাড় জয়ের গল্প: দুর্গম মদকে প্রথমবার পৌঁছালো সেনাবাহিনীর ডোজার

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, সড়কটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে মদক অঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একইসঙ্গে সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় উপস্থিতি আরও সুদৃঢ় হবে এবং স্থানীয় জনগণের জীবনমানেও দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা মদককে ঘিরেও তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ভবিষ্যতে এই অঞ্চল সাজেকের মতোই দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে। দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর এই দুঃসাহসিক নির্মাণযজ্ঞ তাই শুধু একটি সড়ক নির্মাণের গল্প নয়, বরং এটি উন্নয়ন, সাহস, দেশপ্রেম ও মানবিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল প্রতীক।

উল্লেখ্য, দুর্গম পার্বত্যাঞ্চলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। মদকে ডোজার পৌঁছানোর এই ঘটনা সেই ধারাবাহিকতারই আরেকটি অনন্য মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *