পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নকাজে আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদকে গুরুত্ব না দিলে কাজ হবে না'

`পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নকাজে আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদকে গুরুত্ব না দিলে কাজ হবে না’

`পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নকাজে আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদকে গুরুত্ব না দিলে কাজ হবে না'
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারস্পরিক আস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যকর সমন্বয়কে প্রধান শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পার্বত্য এলাকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান—আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদকে যথাযথ গুরুত্ব না দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। একই সঙ্গে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরকারী পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে জীবিকায়নের ধরন, বর্তমান প্রেক্ষাপট ও বাধাসমূহ’ শীর্ষক এই গোলটেবিল যৌথভাবে আয়োজন করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও প্রথম আলো। সহযোগিতায় ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরী গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন।

মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তার অজুহাতে পর্যটন খাতকে থামিয়ে রাখা বা বিদেশি দাতা সংস্থাকে নিরুৎসাহিত করার কোনো সুযোগ নেই। তাঁর মতে, এই অঞ্চলে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবিসহ সব নিরাপত্তা বাহিনী সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে। তাই পর্যটনের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে খাতটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা ও দাতা দেশ কাজ করতে আগ্রহী হলেও নানা জটিলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। এ ধরনের পরিস্থিতিকে নেতিবাচক ও সন্দেহপ্রবণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে বন বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে জুমচাষিদের সম্ভাবনাও যথাযথভাবে বিকশিত হচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন।

গোলটেবিলে পার্বত্য উন্নয়নে আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নকাজে আঞ্চলিক পরিষদকে গুরুত্ব না দিলে কাজ হবে না। এ কাজে জেলা পরিষদগুলোকে সম্পৃক্ত করতেই হবে।” তিনি জানান, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ—রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি—অচিরেই ঘোষণা করা হবে।

`পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নকাজে আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদকে গুরুত্ব না দিলে কাজ হবে না'

১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার প্রশ্নে চুক্তি বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরকারী পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে দীর্ঘ দুই দশকের সশস্ত্র সংঘাতের অবসান ঘটে।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে অনেক এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থা কাজ করতে আগ্রহী হলেও মাঠপর্যায়ে যথাযথ মনিটরিং না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে বরাদ্দের অর্থ অপচয় বা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে কঠোর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মত দেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়িত্বের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক আস্থা—এমন মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, অঞ্চলটিকে বিচ্ছিন্ন বা নেতিবাচক দৃষ্টিতে না দেখে জাতীয় মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর মতে, আস্থা ও সমন্বয় ঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

অনুষ্ঠানে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় পরিচালিত একটি প্রকল্পের মাধ্যমে জুমচাষ নির্ভর ২০ হাজার পরিবারকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি পার্বত্য অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষ করে রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের ওপর জোর দেন। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

গোলটেবিলে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদলের ফার্স্ট কাউন্সিলর এডউইন কোয়েক কোয়েক পার্বত্য চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়নে যৌথ প্রচেষ্টার আহ্বান জানান এবং দারিদ্র্য বিমোচন, অসমতা দূরীকরণ ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ইইউর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সেখানে আরও বক্তব্য দেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদাল, ডেলিগেশন অব দ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন টু বাংলাদেশের রেজিলিয়েন্ট লাইভলিহুডসের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মেহের নিগার ভূঁইয়া, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য চঞ্চু চাকমা, রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান, ইউএনডিপি বাংলাদেশের লাইভলিহুডস অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্স ম্যানেজমেন্টের চিফ বিপ্লব চাকমা, বান্দরবান জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জুলহাস আহমেদ, আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটসের নির্বাহী পরিচালক বিপ্লব চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা, পিআরএলসি প্রকল্পের সুবিধাভোগী কাজলী তঞ্চঙ্গ্যা, দ্য ডেইলি স্টারের সিনিয়র সাংবাদিক জাগরণ চাকমা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রজেক্টের কো–অর্ডিরেটর নিখিল চাকমা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed