ভারতে এবার অবরুদ্ধ খ্রিস্টানরা: পানি ও রুটি-রুজি বন্ধ করে ধর্ম পরিবর্তনের চাপ

ভারতে এবার অবরুদ্ধ খ্রিস্টানরা: পানি ও রুটি-রুজি বন্ধ করে ধর্ম পরিবর্তনের চাপ

ভারতে এবার অবরুদ্ধ খ্রিস্টানরা: পানি ও রুটি-রুজি বন্ধ করে ধর্ম পরিবর্তনের চাপ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে সংখ্যালঘু খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর তীব্র সামাজিক ও অর্থনৈতিক বয়কটের এক অমানবিক চিত্র সামনে এসেছে। কেবল ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে স্থানীয় বেশ কয়েকটি গ্রামের খ্রিস্টান পরিবারগুলোকে খাবার পানির উৎস ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং তাদের উপার্জনের সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ‘প্রোগ্রেসিভ ক্রিশ্চিয়ান অ্যালায়েন্স’ নামক একটি সংগঠনের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ছত্তিশগড়ের কাঙ্কের জেলার আন্তাগড় অঞ্চলের মাদাপ্পা, ভৈনসগাঁও এবং বুর্খাপাড়া সহ বেশ কয়েকটি গ্রামে খ্রিস্টান পরিবারগুলোর ওপর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অঘোষিত অবরুদ্ধ অবস্থা তৈরি করা হয়েছে। তাদের স্থানীয় নদী, পুকুর, সরকারি পানির কল এবং হ্যান্ডপাম্প থেকে পানি সংগ্রহ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ— তাদের জীবনযাত্রা স্তব্ধ করে এবং তীব্র মানসিক চাপ সৃষ্টি করে তথাকথিত “ঘর ওয়াপসি” (পুনরায় সনাতন ধর্মে দীক্ষিত করা) কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করতেই এই অমানবিক ও নিষ্ঠুর পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, পানি পানের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি খ্রিস্টান পরিবারগুলোর ওপর তীব্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা ভাতে-পানিতে মরে ধর্ম ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। অন্তত ২৬টি পরিবার সরাসরি তীব্র পানি সংকটে ভুগছে।

এখানেই শেষ নয়, সরকারের ১০০ দিনের কাজের গ্যারান্টি প্রকল্প বা ‘মনরেগা’ থেকেও খ্রিস্টান শ্রমিকদের জোরপূর্বক বাদ দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ৪১টি পরিবারকে এই প্রকল্পের কাজ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১১৫টি পরিবারকে এই অঞ্চলের বনাঞ্চলের প্রধান মৌসুমী আয়ের উৎস ‘তেন্দু পাতা’ সংগ্রহ ও বিক্রির প্রক্রিয়া থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় অন্যান্য কর্মসংস্থান, বনের ফলমূল ও কাঠ সংগ্রহের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এমনকি ৪টি অসহায় পরিবারের সংগৃহীত জ্বালানি কাঠও কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃষিকাজ ও পশুপালনের ক্ষেত্রেও তাদের নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও মেলেনি প্রতিকার

‘জিলা মসীহ আস্থা সমাজ’-এর প্রতিনিধিরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই চরম সংকটের মুখে তারা একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসনের শরণাপন্ন হয়েছেন। গত এপ্রিল মাসের শুরুতে মৌখিকভাবে এবং পরবর্তীতে ২৮ ও ৩০ এপ্রিল জেলা প্রশাসন ও পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছিল। গত ১৬ মে আক্রান্ত এলাকাগুলো পরিদর্শনের পর প্রতিনিধি দলটি জানায়, ৩০টিরও বেশি গ্রামের ভুক্তভোগীরা এই চরম বৈষম্যের শিকার। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো চরম মানবিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে।

‘প্রোগ্রেসিভ ক্রিশ্চিয়ান অ্যালায়েন্স’ এই ঘটনাকে ভারতের সংবিধানের ১৪, ১৫, ২১ এবং ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে— যা প্রত্যেক নাগরিকের আইনের চোখে সমতা, বৈষম্যহীনতা, মানবিক মর্যাদা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়। সংগঠনটি অনতিবিলম্বে সরকারি কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে এই মানবিক সংকটে হস্তক্ষেপ করার এবং ভুক্তভোগীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

তবে এই সমস্ত গুরুতর অভিযোগের বিপরীতে কাঙ্কের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *