বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’ ব্যক্তিদের ফেরত নিয়ে নাগরিকত্ব যাচাই করবে ভারত

বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’ ব্যক্তিদের ফেরত নিয়ে নাগরিকত্ব যাচাই করবে ভারত

বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’ ব্যক্তিদের ফেরত নিয়ে নাগরিকত্ব যাচাই করবে ভারত
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারত থেকে বাংলাদেশে পাঠানো কয়েকজন ব্যক্তিকে আবার ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে তাদের ভারতীয় নাগরিকত্বের দাবি যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টে এ তথ্য জানায় কেন্দ্র।

মামলাটি দায়ের করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তারা কলকাতা হাইকোর্টের ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরের একটি রায়কে চ্যালেঞ্জ করে। ওই রায়ে সোনালি খাতুনসহ কয়েকজনকে বাংলাদেশে পাঠানোর কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করা হয়েছিল।

এর আগে গত বছরের ৩ ডিসেম্বর মানবিক কারণে সোনালি খাতুন ও তার আট বছর বয়সী সন্তানকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেয় সুপ্রিম কোর্ট। বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার কয়েক মাস পর তাদের ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে শিশুটির দেখভালের নির্দেশ এবং গর্ভবতী সোনালির জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রসবসেবা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল।

গত ২৪ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান জানাতে নির্দেশ দিয়েছিল। সোনালির বাবা ভদু শেখের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কপিল সিবাল ও সঞ্জয় হেগড়ে আদালতে অভিযোগ করেন, কেন্দ্র সরকার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেনি।

আদালতে উপস্থাপিত তথ্যমতে, দিল্লির রোহিনি এলাকার সেক্টর-২৬-এ দুই দশকের বেশি সময় ধরে দিনমজুর হিসেবে কাজ করা কয়েকটি পরিবারকে গত বছরের ১৮ জুন বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করে পুলিশ। পরে ২৭ জুন তাদের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ভদু শেখ অভিযোগ করেন, তার মেয়ে সোনালি খাতুন, জামাতা দানেশ শেখ ও নাতিকে দিল্লি পুলিশ আটক করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। একই এলাকার আরেক বাসিন্দা আমির খানও অভিযোগ করেন, তার বোন সুইটি বিবি ও তার দুই সন্তানকে একইভাবে আটক করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়।

পরে বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর তাদের স্থানীয় পুলিশ আটক করে বলে জানা যায়।

কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চকে জানান, মামলার বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং এটিকে ভবিষ্যতের কোনো মামলার নজির হিসেবে গণ্য না করে সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভারতে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার তাদের ফিরিয়ে আনবে এবং এরপর তাদের নাগরিকত্বের অবস্থান যাচাই করবে। যাচাইয়ের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলিকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চকে মেহতা আরো জানান, এসব ব্যক্তিকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে ৮ থেকে ১০ দিন সময় লাগতে পারে। পরে আদালত মামলার পরবর্তী শুনানি জুলাই মাসে নির্ধারণ করেন।

কলকাতা হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে বলেছিল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ২ মে জারি করা নির্দেশিকা অনুসরণ না করেই তড়িঘড়ি করে ‘পুশ ইন’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। আদালত উল্লেখ করে, বাংলাদেশ বা মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে শনাক্ত ব্যক্তিদের বহিষ্কারের আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারকে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে।

হাইকোর্ট আরো মন্তব্য করেন, আটক ব্যক্তিদের পশ্চিমবঙ্গে আত্মীয়স্বজন রয়েছেন। তাদের ‘পুশ ইন’ প্রশাসনের অতিরিক্ত তৎপরতা ভুল বোঝাবুঝির জন্ম দিতে পারে এবং দেশের বিচারিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *