কাঁটাতারের ওপারে ডিটেনশন ক্যাম্প বানাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ!
![]()
নিউজ ডেস্ক
রাতারাতি বদলে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক মানচিত্র। রাজ্যের প্রতিটি জেলায় তৈরি হচ্ছে ডিটেনশন ক্যাম্প বা বিশেষ ‘হোল্ডিং সেন্টার’! কাদের জন্য এগুলো? বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী? রোহিঙ্গা? নাকি অন্য কোনো পরিকল্পনা?”
“ক্ষমতায় আসার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিজেপি সরকারের কড়া পদক্ষেপ। প্রথমে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া আর এখন হোল্ডিং সেন্টার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট বার্তা—‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট!’
“জেলায় জেলায় এখন তৈরি হবে বিশেষ আটক কেন্দ্র। যেখানে রাখা হবে অবৈধভাবে ভারতে থাকা বিদেশিদের। শুধু ধরা পড়া অনুপ্রবেশকারী নয়। জেল খেটে বের হওয়া বিদেশিরাও যাবে এই কেন্দ্রগুলোতে। যতদিন না তাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে।” কিন্তু কৌতূহল ঠিক এখানেই। এই মডেল কোথা থেকে এল?”
“উত্তর লুকিয়ে আছে আসামে। ভারতের প্রথম বড় ডিটেনশন ক্যাম্প— মাতিয়া ট্রানজিট ক্যাম্প। গুয়াহাটি থেকে প্রায় দেড়শো কিলোমি টার দূ রে। ২০ বিঘা জমির ওপর বিশাল কমপ্লেক্স। ১৫টি আলাদা ভবন। একসঙ্গে ৩ হাজার মানুষকে রাখার ব্যবস্থা।”“শুনতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ মনে হলেও…এই ক্যাম্প নিয়েই শুরু হয় ভয়ঙ্কর বিতর্ক।”
“২০২৪ সালে শতাধিক রোহিঙ্গা ও চিন শরণার্থী শুরু করে অনশন। অভিযোগ ওঠে— খা বারের মান খারাপ, অস্বাস্থ্যকর প রিবেশ।“এমনকি সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়া রিপোর্টেও বলা হয়—মাতিয়া ক্যাম্পের অবস্থা ‘খুবই খারাপ’।”“তবে আসামের যুক্তি একটাই—অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতেই এই ব্যবস্থা জরুরি।”
“১৯৭৯ থেকে ১৯৮৫ সালে আসামে ছিল ভয়ংকর বিদেশি অনুপ্রবেশ ইস্যু। রক্ত, আন্দোলন আর রাজনৈতিক অস্থিরতার পর হয় আসাম অ্যাকর্ড। সেখানে স্পষ্ট—১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের পরে যারা অবৈধভাবে এসেছে,
তাদের শনাক্ত, আটক এবং বহিষ্কার করতে হবে।”
“আজ সেই নীতিকেই আরও বড় আকারে প্রয়োগ করতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গ।”“কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নতুন নির্দেশ বলছে—বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের জন্যই প্রতিটি জেলায় থাকতে হবে হোল্ডিং সেন্টার।”
“সীমান্তে ধরা পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে বায়োমেট্রিক নেওয়া হবে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস স্ক্যান। সব তথ্য আপলোড হবে কেন্দ্রীয় পোর্টালে।” “আর যারা এরইমধ্যে দেশের ভেতরে ছ ড়িয়ে আছে? তাদের খুঁজতে গঠিত হবে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স।”
“কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ আরও বিস্ফোরক।” “তৃণমূলের দা বি—এটা শুধু ডিপোর্টেশন নয়। এনআরসি বা বৈধ নাগরিকদের সরকারি তালিকা আর সিএএ বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের নতুন সংস্করণ।” “অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা বক্তব্য—ভারতের নিরাপত্তা ও সীমান্ত রক্ষায় এ পদক্ষেপ অনিবার্য।”
“এ নির্দেশের পরই প্রশ্ন উঠছে, এই হোল্ডিং সেন্টার কি শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থা? নাকি দেশের নাগরিকত্ব ও অনুপ্রবেশ অভিযান শুরু হচ্ছে নতুন কোনো নামে?” “যেখানে বড় রহস্য ঠিক কত মানুষ সত্যিই ‘বিদেশি’ প্রমাণিত হবে?
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।