আসাম–মেঘালয় সীমান্তে জমি ও কৃষি বিরোধ নিষ্পত্তিতে সমঝোতা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদারে চুক্তি
![]()
নিউজ ডেস্ক
ভারতের আসাম ও মেঘালয়ের আন্তঃরাজ্য সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিনের ভূমি ও কৃষিজমি সংক্রান্ত বিরোধ নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। পশ্চিম কার্বি আংলং জেলার একটি অস্থায়ী আসাম পুলিশ ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সীমান্তবর্তী দুই গ্রামের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে।
বৈঠকে আসামের তাপাত (Tapat) গ্রামের বাসিন্দা এবং মেঘালয়ের লাপাঙ্গাপ (Lapangap) গ্রামের প্রতিনিধিদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে অংশ নেয় কার্বি আংলং স্বায়ত্তশাসিত পরিষদ (কেএএসি) এবং মেঘালয় সরকারের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা। মূলত কৃষিকাজ সংক্রান্ত বিরোধ নিরসন এবং দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করাই ছিল আলোচনার প্রধান লক্ষ্য।
আলোচনায় নেতৃত্ব দেন কেএএসি’র প্রধান নির্বাহী সদস্য ও বিধায়ক ড. তুলিরাম রংহাং এবং মেঘালয়ের উপমুখ্যমন্ত্রী স্নিয়াওভালাং ধর। বৈঠকে সংসদ সদস্য অমরসিং তিসো, বিভিন্ন বিধায়ক, স্বায়ত্তশাসিত পরিষদের সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং দুই রাজ্যের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, লাপাঙ্গাপ গ্রামের বাসিন্দারা তাপাত এলাকার সমতল ও পাদদেশীয় অঞ্চলে তাদের ঐতিহ্যগত কৃষিকাজ অব্যাহত রাখতে পারবেন। এর মধ্যে কার্বি জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে পূর্বে ক্রয় করা জমিগুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অপরদিকে, তাপাত গ্রামের কার্বি কৃষকরা পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি ও ঢালু এলাকায় কলা, আনারস, আদাসহ মৌসুমি ফসল চাষ করতে পারবেন এবং এতে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হবে না।
চুক্তির আওতায় উভয় পক্ষ সীমান্ত এলাকায় শান্তি, সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দুই গ্রামের প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন এবং ড. তুলিরাম রংহাং ও উপমুখ্যমন্ত্রী স্নিয়াওভালাং ধর সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন।
বৈঠক শেষে ড. রংহাং বলেন, এই সমঝোতা উভয় সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের কৃষি কার্যক্রমকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে। তিনি জানান, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে বিরোধ এড়াতে সবাই একমত হয়েছেন।
মেঘালয়ের উপমুখ্যমন্ত্রী স্নিয়াওভালাং ধরও চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি তাপাত ও লাপাঙ্গাপ গ্রামের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কৃষিকাজ নির্বিঘ্ন রাখা এবং সীমান্ত এলাকায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই ছিল আলোচনার মূল উদ্দেশ্য।
উল্লেখ্য, আসাম–মেঘালয় সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ভূমি ও সীমান্তসংক্রান্ত বিরোধ এবং উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সর্বশেষ এই সমঝোতা দুই এলাকার বাসিন্দাদের ঐতিহ্যগত কৃষিকাজ অব্যাহত রাখার সুযোগ তৈরি করবে এবং দুই রাজ্যের সরকারের মধ্যে বৃহত্তর সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির আলোচনা চলমান থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
প্রসঙ্গত, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই সমঝোতা ভবিষ্যতে আন্তঃরাজ্য সীমান্ত এলাকায় সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।