সাজেকে পাহাড়িদের ৫০ টন শুকনা হলুদ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে

সাজেকে পাহাড়িদের ৫০ টন শুকনা হলুদ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে

সাজেকে পাহাড়িদের ৫০ টন শুকনা হলুদ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকের দুর্গম কালুছড়া এলাকায় কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর মজুদকৃত বিপুল পরিমাণ শুকনা হলুদ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে । গতকাল বুধবার (১০ জুন) ভোররাতে সংঘটিত এ ঘটনায় প্রায় ৫০ টন বা সাড়ে ১২শ মণ শুকনা হলুদ পুড়ে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাজেকের কালুছড়া এলাকায় একটি বাঁশের তৈরি ঘরকে অস্থায়ী আড়ত হিসেবে ব্যবহার করে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাদের উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা শুকনা হলুদ মজুদ করে রেখেছিলেন। বুধবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা ওই ঘরে আগুন ধরিয়ে দিলে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে মজুদকৃত বিপুল পরিমাণ হলুদ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে লংতিয়ান পাড়ার কারবারি মিঠুন জয় ত্রিপুরার ৩০০ মণের বেশি হলুদ মজুদ ছিল বলে জানা গেছে। এছাড়া মাচলং এলাকার লবেন্দ্র ত্রিপুরার ৩৫ মণ এবং কার্তিক কুমার ত্রিপুরার ১৫ মণ হলুদও আগুনে পুড়ে গেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন তথ্যে পাঁচজন ব্যবসায়ীর মোট ৮০০ মণ থেকে সাড়ে ১২শ মণ পর্যন্ত হলুদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।

উপেন্দ্র ত্রিপুরা নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, তার বাবারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হলুদ ওই আড়তে সংরক্ষিত ছিল। তিনি ধারণা করছেন, মোট ক্ষতির পরিমাণ ৫০০ থেকে ৬০০ মণেরও বেশি হতে পারে। যেহেতু অধিকাংশ বস্তা ওজন করা হয়নি, তাই প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা চিরকুট উদ্ধার হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ওই চিরকুটে এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ‘সিদ্ধান্ত’ না নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা না করার হুমকির পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কার কথাও লেখা ছিল। চিরকুটে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ রাখার হুমকি এবং ক্ষতিপূরণের বিষয়েও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

সাজেকে পাহাড়িদের ৫০ টন শুকনা হলুদ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট নেতা ক্ষণিরঞ্জন ত্রিপুরা তার ফেসবুক পোস্টে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সাজেক এলাকার ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রায় সাড়ে ১২শ মণ শুকনা হলুদ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তারা হতবাক। তিনি দাবি করেন, বিশেষ সূত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যে এ ঘটনার পেছনে আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী নতুন কুমার চাকমার নির্দেশে এ ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস করে দেওয়া কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ঘটনার সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এ ঘটনার কারণে পার্বত্য অঞ্চলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

ত্রিপুরা ঐক্য পরিষদ ও ত্রিপুরা যুব ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, জুমচাষনির্ভর পরিবারগুলোর জন্য হলুদ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। দীর্ঘ সময়ের শ্রম, উৎপাদন ও সংরক্ষণের পর বাজারজাত করার আগমুহূর্তে এ ধরনের ঘটনা তাদের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের চিহ্নিত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed