বাংলাদেশের মানুষ ও তাদের স্বপ্নের সঙ্গে আমরা যুক্ত: ভারতের নতুন হাই কমিশনার
![]()
নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যকার ‘নিবিড় সম্পর্কের’ ওপর ভিত্তি করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকায় ভারতের নতুন হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
তিনি বলেছেন, “দুই দেশের বন্ধন কেবল ভৌগোলিক সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আমাদের একটি সাধারণ স্বপ্ন রয়েছে, আর তা হলো গণতন্ত্রের সাধারণ স্বপ্ন। তাই শুধু ভারতের ১৪০ কোটি মানুষই নয়, আমি এর সঙ্গে বাংলাদেশের আরও ২০ কোটি মানুষকেও যুক্ত করছি।
“সুতরাং এই ১৬০ কোটি মানুষের জন্য যা কিছু মঙ্গলজনক, আমি নিশ্চিত যে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, এ দেশের মানুষ এবং বাংলাদেশের মানুষ আমাকে আশীর্বাদ করবেন; যাতে আমরা একসঙ্গে থাকতে পারি এবং আমরা যা অর্জন করতে যাচ্ছি, তাতে যেন সফল হই।”
স্ত্রী মৃণাল ত্রিবেদীকে নিয়ে শুক্রবার ঢাকা আসছেন দীনেশ ত্রিবেদী। এর অগে বৃহস্পতিবার তিনি কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক নেতাজি ভবনে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে এ কথা বলেন।
সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের সঙ্গে আলাপকালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, পারস্পরিক আকাঙ্ক্ষা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যকার নিবিড় সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে ভারত ও বাংলাদেশ তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও মজবুত করবে।
ঢাকায় আসার আগে নেতাজি ভবনে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “এই পরিদর্শন আমার কাছে অত্যন্ত গভীর ব্যক্তিগত তাৎপর্য বহন করে। কারণ আমি এই এলাকাতেই বড় হয়েছি এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত। এই জায়গা থেকে মাত্র ৪০০ গজ দূরেই আমার বাড়ি, যেখানে আমার শৈশব কেটেছে।
“আমরা নেতাজির আবেগ ও আদর্শের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি এবং আমাদের মধ্যে যে সমস্ত মূল্যবোধ গড়ে উঠেছে, তা নেতাজিরই অবদান। আমার জন্য নেতাজি ভবনে আসার চেয়ে ভালো আর কিছুই হতে পারে না।”
এর আগে গত ৫ জুন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনারের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন দীনেশ ত্রিবেদী।
গত মাসে তিনি ভারতের সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। তারা ভারত-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং দুই দেশের সামরিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ওপর কাজ করার প্রয়োজনীয়তায় বিশেষ জোর দেন।
দীনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় পাঠানোর মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর কোনো রাজনীতিকে বাংলাদেশে হাই কমিশনারের হিসেবে দায়িত্ব দিচ্ছে ভারত। তিনি পেশাদার কূটনীতিক প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে ভারতীয় মিশনে দায়িত্ব পালন করে আসা প্রণয় ভার্মাকে ইতোমধ্যে বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ভারতের রাষ্ট্রদূত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
রাজনীতিতে অভিজ্ঞ ৭৫ বছর বয়সী দীনেশ ত্রিবেদী ঝরঝরে বাংলা বলেন এবং একজন দক্ষ সেতারবাদক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দুই বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্কেও তিনি ভালো ধারণা রাখেন।
তকে হাই কমিশনার করার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারের জন্য নরেন্দ্র মোদীর একটি ‘বিশেষ বার্তা’হিসেবেই দেখিয়েছে কোনো কোনো ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
গুজরাটি দম্পতি হীরালাল ত্রিবেদী এবং উর্মিলাবেন ত্রিবেদীর ছোট ছেলে দীনেশ হিমাচল প্রদেশের বোর্ডিং স্কুল থেকে পড়াশোনার পর কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে কমার্সে স্নাতক ডিগ্রি পান। তারপর টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করেন।
আশির দশকে কংগ্রেসে যোগ দেন দীনেশ। কিন্তু ১৯৯০ সালে জনতা দলে চলে যান। ১৯৯০-৯৬ পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভায় জনতা দলের সদস্য ছিলেন।
১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করলে সেই দলে যোগ দেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনিই দলটির প্রথম সাধারণ সম্পাদক।
২০০২-০৮ পর্যন্ত রাজ্যসভায় তৃণমূলের এমপি ছিলেন দীনেশ। ২০০৯ সালে ব্যারাকপুর থেকে তৃণমূলের হয়ে লোকসভা ভোটে প্রার্থী হন। ওই আসনে জিতে কেন্দ্রের মনমোহন সিংহ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী হন।
২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে সেই দায়িত্ব সামলান দীনেশ। পরে তাকে সেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
২০১৯ সালের নির্বাচনে ব্যারাকপুর থেকে আবারও তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন দীনেশ, কিন্তু সেবার বিজেপির অর্জুন সিংয়ের কাছে হেরে যান। তারপর তৃণমূল তাকে আবার রাজ্যসভায় পাঠায়।
কিছুদিন পর থেকে তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় দীনেশের। এর ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি তৃণমূল থেকে পদত্যাগ করেন এবং ৬ মার্চ বিজেপিতে যোগ দেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।