রুমায় ৫৬টি পাহাড়ি পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করল সেনাবাহিনী
![]()
নিউজ ডেস্ক
পার্বত্যাঞ্চলে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ভারতের মিজোরাম থেকে ফিরে আসা শরণার্থীদের পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্থানীয় জনগণ ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। একইসঙ্গে জেল থেকে জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও মিজোরামফেরত পরিবারসহ মোট ৫৬টি পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বান্দরবানের রুমা উপজেলার বেথেল পাড়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুমা জোনের জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার।
সভায় উপজেলার বিভিন্ন চার্চের পাস্টর, বম সোশ্যাল কাউন্সিল (বিএসসি)-এর সদস্যবৃন্দ, কারবারি, হেডম্যান এবং বেথেল পাড়ার সাধারণ জনগণসহ প্রায় ১৫৫ জন অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয় এবং সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর হাতে খাদ্য সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্যকালে জোন অধিনায়ক বম সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ)-এর বিভিন্ন অপতৎপরতা সম্পর্কে উপস্থিত জনসাধারণকে সতর্ক করেন এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে সংগঠনটির ভয়ভীতি বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, কেএনএকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান থেকে বিরত থাকতে হবে এবং সংগঠনটির সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। পার্বত্যাঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতাদের সম্মিলিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় তিনি ভারতের মিজোরামে অবস্থানরত বম শরণার্থীদের দেশে ফিরে এসে স্বাভাবিক জীবনযাপনে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও ধর্মীয় ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সম্পর্কে সচেতন থাকার এবং জনগণের মাঝে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জোন অধিনায়ক বলেন, অতীতের তুলনায় বর্তমানে রুমা উপজেলার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনেক বেশি স্থিতিশীল। এ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ধরে রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে শান্তি বিনষ্টের লক্ষ্যে বিভিন্ন অপশক্তি ও সশস্ত্র গোষ্ঠী নানামুখী অপচেষ্টা চালাতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি স্থানীয় জনগণকে যেকোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম সম্পর্কে দ্রুত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
মিজোরাম থেকে ফিরে আসা শরণার্থী এবং জেল থেকে জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি কেএনএর কোনো সদস্য আত্মসমর্পণ করলে তাকে পুরস্কৃত করার পাশাপাশি পুনর্বাসনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় উপস্থিত স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ জনগণ সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা পার্বত্যাঞ্চলে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সকল পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আলোচনা শেষে জেল থেকে জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি, মিজোরাম থেকে ফিরে আসা শরণার্থী পরিবার এবং অন্যান্য অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়। উপকারভোগীরা সেনাবাহিনীর এ মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।