পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে বাড়ছে বরাদ্দ, প্রস্তাবিত বাজেটে ১,৪৫৭ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ

পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে বাড়ছে বরাদ্দ, প্রস্তাবিত বাজেটে ১,৪৫৭ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ

পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে বাড়ছে বরাদ্দ, প্রস্তাবিত বাজেটে ১,৪৫৭ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ১ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৯৫ কোটি টাকা বেশি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পার্বত্য অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কল্যাণে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন এই বাড়তি বরাদ্দ।

বাজেট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট বরাদ্দের মধ্যে প্রায় ৯৬৫ কোটি টাকা উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অর্থের মাধ্যমে সড়ক ও যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, বিভিন্ন জনসেবামূলক স্থাপনা নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

এছাড়া প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয়ের জন্য প্রায় ৪৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আবর্তক ও মূলধন ব্যয়ের জন্য পৃথক বরাদ্দও নির্ধারণ করা হয়েছে, যা মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে নতুন সড়ক নির্মাণ এবং বিদ্যমান যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি নিরাপদ পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা খাতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য দক্ষতাভিত্তিক ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নতুন প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে পার্বত্য অঞ্চলের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচি, গবেষণা কার্যক্রম এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া কৃষি, বনজ সম্পদ উন্নয়ন এবং বৃক্ষরোপণভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয়বর্ধক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী এবং সচেতন মহলের প্রত্যাশা, প্রস্তাবিত বাজেটের এই বাড়তি বরাদ্দ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, পর্যটন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই বরাদ্দ পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি, স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *