চাঁদা না পেয়ে নির্মাণ শ্রমিকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর করল ইউপিডিএফ, উদ্ধার করল সেনাবাহিনী
![]()
নিউজ ডেস্ক
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছড়ি ইউনিয়নে চলমান একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর করেছে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য অঞ্চলের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী। এ ঘটনায় অন্তত ১৬ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৫ জন বাঙালি এবং একজন পাহাড়ি শ্রমিক রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার (১৪ জুন) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে গুইমারা উপজেলার ৩ নং সিন্দুকছড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মুড়াপাড়া এলাকায় নতুন সড়ক নির্মাণকাজ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে জিম্মি শ্রমিকদের উদ্ধার করে সেনাবাহিনী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইউপিডিএফের পোস্ট পরিচালক নিশান মারমার নেতৃত্বে তিনজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী নির্মাণাধীন সড়ক এলাকায় প্রবেশ করে কর্মরত শ্রমিকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে।
সেখানে উপস্থিত শ্রমিকদের অভিযোগ, সশস্ত্র ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা প্রথমে কাজ বন্ধ করতে বলে এবং পরে শ্রমিকদের একটি স্থানে জড়ো করে মারধর শুরু করে। এ সময় শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলার মুখে কেউ প্রতিরোধের চেষ্টা করলে তাকে আরও বেশি নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আহতদের মধ্যে আনিছুর রহমান, খোকন হোসেন, সাদ্দাম হোসেন, বেলাল হোসেনসহ মোট ১৬ জন রয়েছেন। তারা সবাই খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা পৌরসভা ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, মুড়াপাড়া এলাকায় প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের জন্য প্রায় ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে সরকারের। উন্নয়ন প্রকল্পটি শুরুর পর থেকেই কয়েকবার ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে চাঁদা দাবি করা হয়েছিলো। দাবি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ না করায় শ্রমিকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিন্দুকছড়ি জোনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের অভিযোগ, পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফের চাঁদাবাজি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত সড়ক, সেতু, শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো থেকে নিয়মিত চাঁদাবাজি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ঠিকাদার, শ্রমিক কিংবা প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, অপহরণ, হত্যা কিংবা হামলার মতো ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়।
স্থানীয়রা বলছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে একাধিক উপজাতিভিত্তিক সশস্ত্র আঞ্চলিক সংগঠনের তৎপরতার কারণে সাধারণ মানুষ এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বারবার হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় চলমান সরকারি প্রকল্পগুলোকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এতে উন্নয়ন কাজের গতি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এলাকাবাসী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের ওপর এ ধরনের সশস্ত্র হামলা শুধু আইনশৃঙ্খলার অবনতিকেই নির্দেশ করে না, বরং পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ার জন্যও বড় ধরনের হুমকি।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।