সাজেকের দুর্গম সীমান্ত এলাকায় ২ শতাধিক পাহাড়ি মানুষকে বিজিবির চিকিৎসাসেবা ও অনুদান বিতরণ
![]()
নিউজ ডেস্ক
রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম সীমান্তবর্তী উদয়পুর এলাকায় দুই শতাধিক পাহাড়ি ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ বিতরণ এবং বিভিন্ন মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে মারিশ্যা জোন (২৭ বিজিবি)।
বুধবার বিকেলে মারিশ্যা জোনের আওতাধীন উদয়পুর, নতুনপাড়া ও কিংকরপাড়া এলাকায় জনকল্যাণমূলক এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় সভা, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহায়তা বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মারিশ্যা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জাহিদুল ইসলাম জাহিদ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মারিশ্যা জোনের মেডিকেল অফিসার মেজর অমিত কুমার সাহা, উদয়পুর ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মো. সাজ্জাদ রায়হান আকাশ, স্থানীয় হেডম্যান, কারবারি এবং উদয়পুর, নতুনপাড়া ও কিংকরপাড়ার দুই শতাধিক বাসিন্দা।
মতবিনিময় সভায় জোন অধিনায়ক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম সীমান্তবর্তী এসব এলাকা দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ, চিকিৎসা ও শিক্ষা সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। সীমান্ত সড়ক নির্মাণ এবং বিজিবির নিয়মিত টহল কার্যক্রমের ফলে বর্তমানে স্থানীয় জনগণ তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও সহজ যোগাযোগ সুবিধা পাচ্ছে। এতে চিকিৎসা, শিক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহে তাদের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমেছে।

তিনি আরও বলেন, বিজিবি শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই দায়িত্ব শেষ করে না, বরং স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডও পরিচালনা করে আসছে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বিভিন্ন স্থানে পুশ-ইনের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি ও স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সীমান্ত সুরক্ষা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সভা শেষে স্থানীয় জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে কয়েকজন পাহাড়ি নারীকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়।
এছাড়া বর্ষাকালে বসতঘর মেরামতের জন্য ১৫টিরও বেশি পরিবারকে ঢেউটিন বিতরণ করা হয়।

স্থানীয়দের বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে একটি পানির ট্যাংকও হস্তান্তর করা হয়।
পাশাপাশি চিকিৎসা সহায়তার জন্য ১৫ জনের বেশি অসহায় ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়।
পরে আয়োজিত মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশুকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়।

বিজিবির চিকিৎসক দল বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা পরামর্শের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধও বিনামূল্যে বিতরণ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, দুর্গম সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের চিকিৎসাসেবা ও মানবিক সহায়তা তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।