সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ, ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেল গাঁথাছড়া
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
রাঙামাটি পার্বত্য জেলার লংগদু উপজেলার মাইনীমুখ ইউনিয়নের গাঁথাছড়া এলাকায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লংগদু জোনের দ্রুত, পেশাদার ও মানবিক পদক্ষেপে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এবং সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে সবার আগে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা পালন করায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এ উদ্যোগ।
সোমবার (৩ আগস্ট) ভোরে গাঁথাছড়া এলাকায় একটি কাঠমিস্ত্রির কারখানায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের আরও কয়েকটি স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে একটি বসতঘর ও তিনটি ফার্নিচার কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেনাবাহিনীর লংগদু জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর মোর্শেদ-এর নেতৃত্বে লংগদু জোন সদর থেকে তিনটি টহল দল প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে অংশ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, লংগদু জোনের সদস্যরাই সর্বপ্রথম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় জনগণ যুক্ত হলে সমন্বিত প্রচেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেনাবাহিনীর সময়োপযোগী, সাহসী ও সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে আগুনের বিস্তার সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে। এতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় লংগদু জোনের মেডিকেল দল ঘটনাস্থলে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেয় জোন কর্তৃপক্ষ এবং প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে ঝাঁপিয়ে না পড়লে আগুন আশপাশের আরও ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়তে পারত। তাদের মতে, লংগদু জোনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের কারণেই বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে এলাকা রক্ষা পেয়েছে।
এলাকাবাসী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও মানবিক দায়িত্ববোধের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি দুর্যোগ ও সংকটময় মুহূর্তে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেনাবাহিনী আবারও জনআস্থার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

স্থানীয়দের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বহুবার মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গাঁথাছড়ার এই অগ্নিকাণ্ডেও লংগদু জোনের সময়োপযোগী পদক্ষেপ সেই আস্থাকেই আরও সুদৃঢ় করেছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।