ইন্দো-প্যাসিফিক থেকে শুধু প্যাসিফিক কমান্ড, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব কমছে!

ইন্দো-প্যাসিফিক থেকে শুধু প্যাসিফিক কমান্ড, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব কমছে!

ইন্দো-প্যাসিফিক থেকে শুধু প্যাসিফিক কমান্ড, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব কমছে!
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ দপ্তর বা ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের নাম আবার পরিবর্তন করে ইউএস প্যাসিফিক কমান্ড করেছে। ১৬ জুন যুক্তরাষ্ট্র সরকার ঘোষণা দেয়, ইউএস ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে আবার ইউএস প্যাসিফিক কমান্ড (ইউএসপিএকম) নামে ফিরে যাবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, এই কমান্ডটি সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে ইউএস প্যাসিফিক কমান্ড নামেই পরিচালিত হয়েছে। পরে ২০১৮ সালে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদকালে যুদ্ধ দপ্তর এর নাম পরিবর্তন করে ইউএস ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড (ইউএসইন্দো-পিএকম) রাখে। সে সময়ের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে ‘ক্রমবর্ধমান সংযুক্তির’ গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। ম্যাটিস জোর দিয়ে বলেছিলেন, এই কমান্ড ২০১৮ সালের যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তবে ১৬ জুন প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আবার ইউএসপিএকম নাম পুনর্বহালের ঘোষণা দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইউএসপিএকমের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারকে সম্মান জানানো হচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ঐতিহ্য প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকারীদের মধ্যে গর্ববোধ তৈরি করে। মূলত ১৯৪৭ সালের ১ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান এই কমান্ড প্রতিষ্ঠা করেন। সময়ের সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরোনো ও বৃহত্তম ইউনিফায়েড কমব্যাট্যান্ট কমান্ডগুলোর একটি হয়ে ওঠে।

ভারতের ভুল মানচিত্রও ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র

যদিও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কমান্ডটির দায়িত্বের বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকা অপরিবর্তিত থাকবে এবং তা ‘যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলসংলগ্ন জলসীমা থেকে ভারতের পশ্চিম সীমান্ত পর্যন্ত’ বিস্তৃত থাকবে, তবু ইউএসপিএকমের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হালনাগাদ দায়িত্বশীল এলাকার মানচিত্রে ভারতের একটি ভুল মানচিত্র দেখানো হয়েছে। সেখানে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের কিছু অংশ অনুপস্থিত দেখানো হয়।

এ ঘটনায় বিরোধী দল কংগ্রেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সরকারের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। দলটি বলে, ‘মোদি সরকারের পক্ষ থেকে একটি শব্দও বলা হচ্ছে না।’ একই সঙ্গে তারা ২০১৮ সালের প্রসঙ্গও টেনে আনে, যখন ‘ইন্দো’ শব্দটি যুক্ত হওয়াকে সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছিল।

বর্তমান মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তাঁর এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘ইউএস প্যাসিফিক কমান্ড ফিরে এসেছে।’ এই ঘোষণাটি এমন সময়ে এলো, যখন জি-৭ সম্মেলনের চলমান পর্বে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে এই সিদ্ধান্তের সময় নির্বাচন নিয়েও নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে দুই দেশের সম্পর্ক এমনিতেই টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে বলে আলোচনা চলছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *