অস্ত্র ত্যাগের সুফল: পাহাড়ে সাবেক কেএনএফ কমান্ডারের স্ত্রীর প্রাণ বাঁচালো সেনাবাহিনী
![]()
নিউজ ডেস্ক
কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের উদ্দেশে অস্ত্রের পথ পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেখানে সাবেক সশস্ত্র কমান্ডার রোয়াল লিন বমের জীবনের উদাহরণ তুলে ধরে দাবি করা হয়েছে (ছবি-১), সহিংসতা ও সশস্ত্র কার্যক্রম পরিত্যাগ করে মূলধারায় ফিরে আসার ফলেই আজ তার পরিবার রাষ্ট্রীয় সহায়তা ও মানবিক সেবা পাচ্ছে।
বক্তব্যে বলা হয়, একসময় কেএনএফের সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকা রোয়াল লিন বম পরবর্তীতে ভুল বুঝতে পেরে অস্ত্রের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় তিনি নতুন জীবন শুরু করেন এবং সমাজের মূলধারায় যুক্ত হন।
গতকাল শনিবার (২০ জুন) বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম পার্বত্য এলাকায় স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তার স্ত্রী রামকিল বম। খবর পেয়ে জরুরি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বক্তব্যে প্রশ্ন তোলা হয়, “রোয়াল লিন বম যদি সময়মতো সশস্ত্র জীবন ত্যাগ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে না আসতেন, তাহলে কি আজ তার স্ত্রীর জীবন রক্ষায় সেনাবাহিনী এভাবে এগিয়ে আসত?” এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখনো কেএনএফের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নিজেদের ভবিষ্যৎ ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বরং অস্ত্র পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এলে রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন সম্ভব।

বক্তব্যে অতীতের একটি ঘটনারও উল্লেখ করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, কেএনএফের কর্মকাণ্ড ও ভীতির কারণে বম সম্প্রদায়ের বহু সাধারণ মানুষ একসময় ঘরবাড়ি ছেড়ে সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনে এবং পুনর্বাসনের জন্য আর্থিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান করে।
এ প্রসঙ্গে বলা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবস্থান কখনোই সাধারণ বম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। বরং সেনাবাহিনীর অভিযান পরিচালিত হচ্ছে কেবল সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) এবং এর সশস্ত্র শাখার বিরুদ্ধে। বম সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক এবং তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
বক্তব্যের শেষাংশে কেএনএফের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের প্রতি পুনরায় আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, সহিংসতা ও সংঘাতের পথ কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। অস্ত্র ত্যাগ করে শান্তিপূর্ণ জীবনে ফিরে আসাই ব্যক্তি, পরিবার এবং পুরো বম সম্প্রদায়ের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ ও উন্নয়নের একমাত্র পথ।
প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান নিরাপত্তা অভিযানের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা সহায়তা, পুনর্বাসন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জরুরি মানবিক সহায়তার মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে কাজ করে যাচ্ছে। গতকাল দুর্গম এলাকায় অসুস্থ রামকিল বমকে হেলিকপ্টারযোগে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করাকে অনেকেই সেই মানবিক ভূমিকার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।