অভিযানকালে সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি; পাল্টা গুলিতে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী নিহত, একে-৪৭ উদ্ধার

অভিযানকালে সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি; পাল্টা গুলিতে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী নিহত, একে-৪৭ উদ্ধার

অভিযানকালে সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি; পাল্টা গুলিতে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী নিহত, একে-৪৭ উদ্ধার
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মাটিরাঙ্গায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাকালে ইউপিডিএফ কর্তৃক সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটেছে। এসময় আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুঁড়ে সেনাবাহিনী। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশী করে গুলিবিদ্ধ এক ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আর সশস্ত্র তৎপরতায় ব্যবহৃত একটি একে-৪৭ উদ্ধার করে সেনাবাহিনী।

আজ বুধবার (২৪ জুন) সকাল আনুমানিক পোনে ১১টার দিকে উপজেলার রামগড় সীমান্তবর্তী প্রেমতলা-তৈকাথান নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সূত্র বলছে, প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করে আশে-পাশের এলাকাগুলোতে চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র তৎপরতা চালিয়ে আসছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে সকালে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়নের সিন্দুকছড়ি জোন।

এসময় সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। পরে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় সেনাবাহিনীও। বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি বিনিময়ের পর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা টিকতে না পেরে পাহাড় ও গহীন জঙ্গলকে কাজে লাগিয়ে সেখোন থেকে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল ও এর আশ-পাশ তল্লাশী করে ববিন ত্রিপুরা (৩২) নামের এক সশস্ত্র ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীর মরদেহ শনাক্ত করে সেনাবাহিনী। এছাড়া মংসানু মারমা নামে অপর এক সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে আহত অবস্থায় একে-৪৭ অস্ত্রসহ আটক করা হয়।

জানা যায়, নিহত ববিন ত্রিপুরা রামগড় উপজেলার মাজারা টিলা গ্রামের বাসিন্দা। আর আহত মংসানু মারমা একই উপজেলার দাতারাম পাড়া এলাকার বাসিন্দা।

ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে নিহত ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী ববিন ত্রিপুরার লাশ উদ্ধার করেছে  থানা পুলিশ।

মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাহেদ উদ্দিন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সকালে মাটিরাঙ্গার তৈকাথান এলাকায় অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ সময় ইউপিডিএফ সদস্যরা গুলি ছুড়লে আত্মরক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা গুলি চালায়। এতে ববিন ত্রিপুরা নিহত হন।

ঘটনার পর তৈকাথান, রামগড়ের প্রেমতলা, যৌথ খামার ও বাজার চৌধুরী পাড়াসহ আশে-পাশের এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তির অনুভূতি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র তৎপরতা, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল, এই অভিযানের পর তা অনেকাংশে কমেছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে নিরাপত্তাবাহিনীর তৎপরতায় এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও গোলাগুলির আশঙ্কায় অনেক সময় স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হতো। বর্তমান অভিযানের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা বেড়েছে এবং তারা নিরাপদ পরিবেশে বসবাসের প্রত্যাশা করছেন। স্থানীয়রা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর চলমান তৎপরতার প্রশংসা করে সন্ত্রাসমুক্ত পার্বত্য অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা রতন ত্রিপুরা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় ইউপিডিএফের তৎপরতার কারনে সাধারণ মানুষ ভীতির মধ্যে ছিল। এই অভিযানের পর আমরা কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছি। আমরা চাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনী এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখুক, যাতে সাধারণ মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারে।’

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *