৪৮ ঘণ্টায় বরকলে গৃহবধূ হত্যা রহস্যের উন্মোচন, টাকার লোভে খুন; আটক ২
![]()
নিউজ ডেস্ক
রাঙামাটির বরকল উপজেলায় গৃহবধূ আয়েশা বেগম (৪৯) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার সঙ্গে জড়িত দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে লুট হওয়া ১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি হাতুড়ি ও একটি ইট উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাঙামাটি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন এবং বরকল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সুপার জানান, বরকল উপজেলার ১ নম্বর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বরুনাছড়ি (ইসলামপুর) এলাকায় নিজ বসতঘরে গত ২১ জুন গৃহবধূ আয়েশা বেগমকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরপরই জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে বরকল থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ তদন্ত ও অভিযান শুরু করা হয়।
তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। এর মধ্যে দুজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. সোহাগ (১৭) এবং ওমর আলী (১৯)। সোহাগ নিহত আয়েশা বেগমের ভাইয়ের ছেলে এবং ওমর আলী পাশ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, গৃহবধূর কাছে জমিয়ে রাখা টাকা রয়েছে—এ তথ্য জানার পর টাকার লোভে তারা হত্যার পরিকল্পনা করে। ২১ জুন বিকেলে তারা বাড়িতে গিয়ে টাকা চুরি করার চেষ্টা করলে আয়েশা বেগম বাধা দেন। একপর্যায়ে তারা প্রথমে ইট এবং পরে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করে। এরপর ঘরে থাকা টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোহাগের বাড়ির হাঁস-মুরগির ঘরের পাশে মাটির নিচে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ১ লাখ ৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ওমর আলীর বাড়ির দক্ষিণ পাশের কলাবাগানে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে আরও ৯৩ হাজার টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মোট টাকার পরিমাণ ১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা।

পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ইট ও একটি হাতুড়িও আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা অপরাধের কথা স্বীকার করেছে।
পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, “ঘটনার পরপরই জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং মাঠপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে।”
তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন নিহত আয়েশা বেগমের ছেলে আশরাফ আলী বাদী হয়ে বরকল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশের বিশেষ অভিযানে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হয় এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।