উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইসরায়েলে সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
![]()
নিউজ ডেস্ক
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে অবস্থিত কিছু সামরিক ঘাঁটি ও কার্যক্রম ইসরায়েলে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে তীব্র পাল্টা হামলা চালায় তেহরান। এতে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং আরও অন্তত ২০টি মার্কিন স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে যে এই হামলায় প্রায় ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা পেন্টাগন প্রথমে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।

ইরানের সস্তা কিন্তু নিখুঁত ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত সুরক্ষিত ঘাঁটিগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে। তাই ওয়াশিংটন তাদের ঘাঁটি ও কার্যক্রম আরও পশ্চিমে, অর্থাৎ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের বাইরে বা তুলনামূলক নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিতে চাইছে।
অন্যদিকে যুদ্ধ চলাকালীন ইরানের পাল্টা হামলার ভয়ে সৌদি আরব, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো উপসাগরীয় মিত্ররা তাদের মাটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক অভিযান চালাতে বাধা দিয়েছিল। ফলে ওয়াশিংটন এমন একটি বিকল্প খুঁজছে যেখানে কোনো ভূ-রাজনৈতিক বাধা ছাড়াই সামরিক কার্যক্রম চালানো সম্ভব।
মার্কিন প্রশাসনের দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, দীর্ঘস্থায়ী ও বড় ঘাঁটিগুলোর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র এখন ছোট আকারের এবং বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ঘাঁটির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ওয়াশিংটন চাইলে এই অঞ্চলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ইসরায়েলে স্থানান্তর করতে পারে। একই সঙ্গে কুয়েত ও সৌদি আরবে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনা হতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়- পেন্টাগন এখনো এই স্থানান্তরের পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
এদিকে এই খবর এমন এক সময় এলো যখন, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে তারা ইরানের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। পাল্টা প্রতিক্রিয়া উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক টেলিগ্রাম বার্তায় আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো আগ্রাসন চালানো হলে ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া আরও কঠোর ও বিস্তৃত হবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।