বাংলাদেশ নিয়ে মন্তব্যের জেরে ভারতে ইসকনের সব দায়িত্ব হারালেন রাধারমণ দাস
![]()
নিউজ ডেস্ক
কলকাতায় ইসকনের সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাধারমণ দাসকে সংস্থার সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে গণমাধ্যম, সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং জনসম্মুখের কোনো প্ল্যাটফর্মে ইসকনের প্রতিনিধিত্ব না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রকাশ্য মন্তব্য করাসহ একাধিক শৃঙ্খলাজনিত কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা ইউএনআইয়ের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার গৃহীত এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন রাধারমণ দাস। তিনি ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইসকনের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেছেন।
রাধারমণ দাস জানান, তাঁর অপসারণের পেছনে ছয়টি নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা, চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর প্রতি সমর্থন জানানো এবং গত ২৯ মে রিপাবলিক টিভির একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ।
এ ছাড়া ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মেনকা গান্ধীকে আইনি নোটিশ পাঠানো, কৌতুকশিল্পী সুরলিন কৌরের বিরুদ্ধে সাইবার অভিযোগ দায়ের, প্রকাশ্যে সনাতন ধর্মের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৯৭৬ সালের নিউইয়র্ক রথযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট শেয়ার করার বিষয়ও কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ইসকন-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বাংলাদেশের আলোচিত সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ঘিরে রাধারমণ দাসের প্রকাশ্য মন্তব্যই তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের স্কুলে নিরামিষভিত্তিক মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচির পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখার সময় ডিমের পরিবর্তে সয়া চাঙ্কস, রাজমা, পনির ও ছোলার পুষ্টিগুণ নিয়ে প্রকাশ্যে দেওয়া তাঁর বক্তব্যও ইসকনের অনুমোদিত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না বলে সংস্থার ব্যবস্থাপনা সূত্র জানিয়েছে। এর ফলে সংস্থার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে যুক্ত হয়।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।