থাইল্যান্ড সীমান্তে বড় ধরনের অভিযান শুরু মিয়ানমার জান্তার, ড্রোন ও গোলাবর্ষণ

থাইল্যান্ড সীমান্তে বড় ধরনের অভিযান শুরু মিয়ানমার জান্তার, ড্রোন ও গোলাবর্ষণ

থাইল্যান্ড সীমান্তে বড় ধরনের অভিযান শুরু মিয়ানমার জান্তার, ড্রোন ও গোলাবর্ষণ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী কারেন রাজ্যের মিয়াওয়াদি টাউনশিপে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের শক্ত ঘাঁটি দখলে নিতে প্রতিদিন ড্রোন হামলা ও ভারী গোলাবর্ষণ চালাচ্ছে দেশটির সামরিক জান্তা। সীমান্তের ওপারে থাইল্যান্ডের ভূখণ্ডেও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ও আর্টিলারি শেল গিয়ে পড়ায় দেশটির কর্তৃপক্ষ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং সীমান্তবাসীর জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছে।

গত বছরের অক্টোবর থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী সীমান্ত বাণিজ্যকেন্দ্র মিয়াওয়াদি শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দক্ষিণে মিন লেট পান গ্রাম অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সেখানে Karen National Liberation Army (কেএনএলএ), যা Karen National Union-এর সশস্ত্র শাখা, এবং তাদের মিত্র বাহিনীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়েছে সেনারা।

গত বছরের নভেম্বরের যুদ্ধে কেএনএলএ নেতৃত্বাধীন বাহিনী জান্তাপন্থী Democratic Karen Benevolent Army-এর কাছ থেকে মিন লেট পান গ্রামের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেয়।

প্রতিরোধ বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে জান্তা বাহিনী এবং তাদের মিত্র কারেন মিলিশিয়ারা ড্রোন হামলা ও ভারী গোলাবর্ষণের সহায়তায় প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করেছে।

প্রতিরোধ বাহিনীর এক সদস্য দ্য ইরাবতীকে বলেন, “তারা প্রতিদিন প্রায় ২০টি আর্টিলারি শেল নিক্ষেপ করছে এবং একই সঙ্গে ব্যাপকভাবে ড্রোন হামলার ওপর নির্ভর করছে।”

তিনি জানান, জান্তা ও তাদের মিত্র বাহিনীর প্রায় এক হাজার সেনা চারটি দিক—লে কে কাও, পালু পাহাড়ি এলাকা, মে হতো থা লে এবং পালু সড়ক—থেকে মিন লেট পানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এতে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সঙ্গে টানা সংঘর্ষ চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মঙ্গলবার সকালে প্রায় ২৪টি সামরিক যানবাহনে করে আরও প্রায় এক হাজার সেনা ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ লে কে কাও শহরে পৌঁছেছে। শহরটি মিন লেট পান গ্রামের প্রায় ৯ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত।

প্রতিরোধ বাহিনীর ওই সদস্য বলেন, “তারা এখন প্রযুক্তিগত সুবিধা—বিশেষ করে নজরদারি ও আত্মঘাতী ড্রোন—ব্যবহার করে আমাদের অবস্থানের দুর্বলতা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। মানবঢেউ কৌশলে আক্রমণ চালানোর সাহস তারা করছে না, কারণ তারা জানে আমাদের প্রতিরক্ষা অত্যন্ত শক্তিশালী।”

মিয়াওয়াদি, ককরেইক ও পাপুন টাউনশিপজুড়ে জান্তার এই সামরিক অভিযানে বো বি নেতৃত্বাধীন Democratic Karen Buddhist Army-এর একটি ভিন্নমতাবলম্বী অংশ এবং সাও মোতে থোনের নেতৃত্বাধীন Border Guard Force (বিজিএফ) সহায়তা করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জান্তা বাহিনী মিন লেট পান গ্রামে বিমান হামলা ও ভারী গোলাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে, যার ফলে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।

গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, “গোলা এসে বাড়িঘরে আঘাত করছে। এতে গ্রামবাসী নিহত ও আহত হচ্ছেন, পাশাপাশি অনেক বাড়িঘর পুড়ে যাচ্ছে।” তিনি জানান, অধিকাংশ বাসিন্দা নিরাপদ স্থানে চলে গেলেও কয়েকজন পুরুষ গ্রামবাসী বাড়িঘর পাহারা দিতে গ্রামের বৌদ্ধ বিহারে অবস্থান করছেন।

এদিকে, থাই গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রোববার সীমান্তের ওপারে থাইল্যান্ডের তাক প্রদেশের মে সট জেলার হুয়াই মাহা ওয়ং গ্রামে মর্টারের গোলা ও মেশিনগানের গুলি এসে পড়ার পর দেশটির কর্তৃপক্ষ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। অনানুষ্ঠানিক সীমান্ত পারাপারের পথগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয়দের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

থাইল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া এক গ্রামবাসী বলেন, “সীমান্ত পারাপারের পথগুলো এখনো বন্ধ রয়েছে। থাই সেনারা মিন লেট পানের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে।”

তিনি জানান, বাস্তুচ্যুত গ্রামবাসীরা আগে মাঝেমধ্যে সীমান্ত পার হয়ে নিজেদের বাড়িঘর দেখতে যেতেন এবং থাইল্যান্ডের বাজার থেকে খাদ্যসামগ্রী কিনতেন। কিন্তু সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের খাদ্য সংগ্রহ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

এদিকে, Karen Peace Support Network-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত কেএনইউ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী মোট ১ হাজার ৪৬১টি বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও স্থল অভিযান চালিয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ১৩৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত, ২৭০ জন আহত এবং প্রায় ৬০০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *