বন্যায় সবচেয়ে ঝুঁকিতে শিশুরা: সচেতনতাই হতে পারে জীবন বাঁচানোর উপায়

বন্যায় সবচেয়ে ঝুঁকিতে শিশুরা: সচেতনতাই হতে পারে জীবন বাঁচানোর উপায়

বন্যায় সবচেয়ে ঝুঁকিতে শিশুরা: সচেতনতাই হতে পারে জীবন বাঁচানোর উপায়
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

তারেকুর রহমান, কক্সবাজার

“আমি তো ভাবিনি, ঘরের পাশের এই পানিটাই আমার সন্তানকে কেড়ে নেবে। মৃত্যুর একটু আগেও উঠানে খেলছিল। চোখের আড়াল হতেই খুঁজতে শুরু করি। অনেকক্ষণ পরে যখন পানির মধ্যে পেলাম, তখনও বিশ্বাস হচ্ছিল না আমার পুষ্প আর নেই।”
কথাগুলো বলতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার আরিফুল ইসলাম। তিন বছরের শিশু পুষ্পকে বুকে জড়িয়ে হাসপাতালে ছুটেছিলেন তিনি। কিন্তু চিকিৎসক জানিয়ে দেন, তার সন্তান আর বেঁচে নেই।
একই শোক বয়ে বেড়াচ্ছেন চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারা এলাকার সোলতান আহমদও। দুই বছর বয়সী ছেলে ওয়াকিমকে হারিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “ আমার ছেলেটা বাড়ির সামনে কত আনন্দে খেলছিল। কে জানত, কয়েক মিনিটের অসাবধানতায় তাকে আর ফিরে পাব না। বন্যার এই পানি আমার বুকটাই খালি করে দিল।”
গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাড়া এলাকায় এবং একই দিন বিকেলে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজ কাকারা এলাকায় পৃথক দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় কক্সবাজারের ৯টি উপজেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগে ৪৫ হাজার ৪৩৬টি পরিবারের ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৯৮ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রাণ হারিয়েছেন ৩১ জন, যাদের মধ্যে ১৩ জন রোহিঙ্গা ও ১৮ জন স্থানীয় বাসিন্দা। পানি নামতে শুরু করলেও অনেক এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা, ভাঙাচোরা সড়ক, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পানিতে ডুবে মৃত্যু, সাপের কামড়, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, পানিবাহিত রোগ, চর্মরোগ, বজ্রপাত এবং মানসিক আঘাত সব মিলিয়ে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
বন্যায় সবচেয়ে ঝুঁকিতে শিশুরা: সচেতনতাই হতে পারে জীবন বাঁচানোর উপায়
চকরিয়ার দুর্গম বমু বিলছড়ি, বড়ইতলী, বিবিরখীল ও হারবাংসহ বিভিন্ন এলাকায় এখনো অনেক পরিবার খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে রয়েছে। কোথাও কোথাও সড়ক ভেঙে যাওয়ায় রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
রামুর মিঠাছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা নাসিমা বেগম বলেন, “বন্যার সময় আমাদের বাড়ির চারপাশে পানি উঠে যায়। দুই সন্তানকে সারাক্ষণ চোখে চোখে রাখতে হয়েছে। গণমাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতামূলক তথ্য দেখার পর থেকে ওদের একা বাইরে যেতে দিই না। এতে অন্তত কিছুটা নিরাপদ বোধ করছি।”
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জনস্বাস্থ্য, শিশু সুরক্ষা ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্যাকালে শিশুদের অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে অসচেতনতা ও সামান্য অসাবধানতার কারণে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত দেখা এবং কিছু মৌলিক সতর্কতা মেনে চললে অনেক দুর্ঘটনাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
পানিতে খেলা নয়, সার্বক্ষণিক তদারকি
বন্যার পানি শিশুদের কাছে খেলাধুলার জায়গা মনে হলেও এর নিচে থাকতে পারে খোলা নালা, গভীর গর্ত, ভাঙা ড্রেন কিংবা তীব্র স্রোত। অল্প পানিতেও শিশু ডুবে যেতে পারে। তাই কোনো অবস্থাতেই শিশুদের একা বাইরে বা বন্যার পানিতে যেতে দেওয়া উচিত নয়। পরিবারের একজন প্রাপ্তবয়স্ককে সব সময় তাদের তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে। নৌকায় চলাচলের প্রয়োজন হলে শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)’-এর ফিল্ড টিম ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “দুর্যোগের সময় শিশুরা ঝুঁকির মাত্রা বুঝতে পারে না। তাই অভিভাবকদের সার্বক্ষণিক তদারকিই সবচেয়ে কার্যকর নিরাপত্তা। শিশুদের কখনোই একা বন্যার পানিতে যেতে দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে তাদের বয়স উপযোগী ভাষায় ঝুঁকি সম্পর্কে বোঝাতে হবে, যাতে তারা বিপজ্জনক স্থান এড়িয়ে চলতে শেখে। আশ্রয়কেন্দ্রেও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবারের সদস্যদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে।”
চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের বাসিন্দা নাবিল আহমেদ বলেন, “চকরিয়ায় পানিতে ডুবে এবং পাহাড়ধসে কয়েকজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরপর থেকে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আমি আরো বেশি সচেতন হয়েছি।”
বন্যায় বাড়ে সাপের উপদ্রব
বন্যার সময় গর্তে পানি ঢুকে পড়ায় সাপ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর, রান্নাঘর, খড়ের গাদা কিংবা আশ্রয়কেন্দ্রে ঢুকে পড়তে পারে। তাই শিশুদের খালি পায়ে হাঁটতে না দেওয়া, রাতে টর্চ ছাড়া বাইরে না যাওয়া এবং বিছানায় শোয়ার আগে চাদর, মশারি ও আশপাশ ভালোভাবে পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাপে কামড়ালে ওঝা, ঝাড়ফুঁক বা কুসংস্কারের আশ্রয় না নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। আক্রান্ত স্থানে কেটে রক্ত বের করা, বিষ চুষে বের করা বা শক্ত করে বেঁধে রাখার মতো পদ্ধতি ব্যবহার করা বিপজ্জনক।
চকরিয়ার বমু বিলছড়ি এলাকার বাসিন্দা রোকেয়া বেগম বলেন, “আমাদের এই এলাকাটি পাহাড়ি এলাকা। তাই বন্যা শুরুর সময় নিজেই অনলাইনে সাপের উপদ্রব সম্পর্কে সচেতন হয়েছি।”
কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, “বন্যার পর সাপ মানুষের বসতবাড়ির দিকে চলে আসে। তাই ঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখা, ঝোপঝাড় অপসারণ এবং শিশুদের জুতা পরে চলাফেরা নিশ্চিত করা জরুরি। সাপে কামড়ালে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াই জীবন বাঁচানোর একমাত্র নিরাপদ উপায়।”
বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা
বন্যার সময় নলকূপ, কূপ ও পুকুরের পানি দূষিত হয়ে যায়। দূষিত পানি পান করলে শিশুদের ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, জন্ডিসসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই শিশুদের শুধু ফুটানো বা বিশুদ্ধ করা পানি পান করাতে হবে। খাবার সব সময় ঢেকে রাখতে হবে এবং সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখতে হবে। দীর্ঘ সময় ভেজা কাপড় পরে থাকলে চর্মরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
আশ্রয়কেন্দ্রে শিশুদের প্রতি বাড়তি নজর
বন্যায় অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করে। সেখানে ভিড়ের মধ্যে শিশু হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই শিশুদের সব সময় চোখের সামনে রাখতে হবে। প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে নাম, ঠিকানা ও অভিভাবকের মোবাইল নম্বর লেখা একটি পরিচয়পত্র রাখা যেতে পারে।
মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দিতে হবে
দীর্ঘদিন পানিবন্দি থাকা, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিংবা মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য শিশুদের মনে ভয় ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই অভিভাবকদের উচিত শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং খেলাধুলা বা গল্পের মাধ্যমে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা।
কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেন, “বন্যার পর শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া, জ্বর, চর্মরোগ, চোখ ওঠা (কনজাংটিভাইটিস) ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই বিশুদ্ধ পানি পান, নিরাপদ খাবার গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে অভিভাবকদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো শিশুর জ্বর, পাতলা পায়খানা, চোখ লাল হওয়া, চুলকানি বা অন্য কোনো অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলাজুড়ে ৮৮টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগে আক্রান্তদের জন্য পৃথক চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত রাখা হয়েছে।” প্রয়োজনে মাঠপর্যায়ে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছ থেকেও পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বন্যায় সবচেয়ে ঝুঁকিতে শিশুরা: সচেতনতাই হতে পারে জীবন বাঁচানোর উপায়
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. তৌওসিফ উদ্দিন মিজবাহ বলেন, “বন্যাকালে বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা শিশুদের সুস্থ রাখার অন্যতম শর্ত। জ্বর, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, সাপে কামড় বা অন্য কোনো শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।”
কক্সবাজার সদরের বাংলাবাজার এলাকার চাকরিজীবী সাইদুল ইসলাম তুহিন বলেন, “বন্যার পর আমার ছোট ছেলে খুব ভয় পেয়ে যায়। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আমরা ওর সঙ্গে বেশি সময় কাটাচ্ছি, গল্প করছি, খেলাধুলা করছি। এখন সে আগের তুলনায় অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে।”
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ও বজ্রপাতের ঝুঁকি
বন্যার সময় ছিঁড়ে পড়া বৈদ্যুতিক তার কিংবা পানিতে ডুবে থাকা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি থেকে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। শিশুদের এসব এলাকা থেকে দূরে রাখতে হবে। একই সঙ্গে ভারী বর্ষণের সময় বজ্রপাত হলে শিশুদের খোলা মাঠ, নদী, খাল, পুকুর বা বড় গাছের নিচে যেতে দেওয়া যাবে না।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস মেনে আগাম প্রস্তুতি
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, “ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পূর্বাভাস নিয়মিত অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সতর্কবার্তা পাওয়া মাত্র নিচু এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। শিশু খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ, শুকনো খাবার, টর্চ, অতিরিক্ত পোশাক এবং জরুরি কাগজপত্র আগে থেকেই একটি ব্যাগে প্রস্তুত রাখলে দুর্যোগের সময় দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়া সম্ভব হয়।”
পেকুয়ার উজানটিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম সাজু বলেন, “আগাম সতর্কবার্তা পেয়ে আমরা শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ আর বাচ্চাদের কাপড় আগে থেকেই গুছিয়ে রেখেছিলাম। তাই নিরাপদ স্থানে যেতে খুব একটা সমস্যায় পড়তে হয়নি। তবে অসচেতনতার কারণে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা বাড়িয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, রামু, সদর, কুতুবদিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় হাজার হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় জেলার ৪৩ হাজার ২১০ জন কৃষক, ৩ হাজার ৯১৮টি মৎস্য খামার, ৪৫৩টি মাছের ঘের, ৩০৩টি গবাদিপশুর খামার এবং ৩৩০টি পোলট্রি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে অনেক এলাকায় খাদ্য, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের সংকট তৈরি হয়েছে, যা শিশুদের জন্য অতিরিক্ত স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে, ৮৮টি মেডিকেল টিম গঠন করেছে, অ্যান্টিভেনম, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও জেরিক্যান বিতরণ করেছে। তবে দুর্গম এলাকায় এখনো অনেক পরিবার ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে।
কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, “কক্সবাজারের সাম্প্রতিক বন্যা দেখিয়ে দিয়েছে, দুর্যোগের সময় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশুরা। তাই ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি তথ্যভিত্তিক সচেতনতা, আগাম প্রস্তুতি এবং অভিভাবকদের দায়িত্বশীল আচরণই পারে একটি শিশুর জীবন রক্ষা করতে।”
  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed