লামায় ফল বিপর্যয়ের মাঝেও কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের সাফল্য, জিপিএ-৫ এ শীর্ষে

লামায় ফল বিপর্যয়ের মাঝেও কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের সাফল্য, জিপিএ-৫ এ শীর্ষে

লামায় ফল বিপর্যয়ের মাঝেও কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের সাফল্য, জিপিএ-৫ এ শীর্ষে
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

বান্দরবানের লামা উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও কারিগরি পরীক্ষার ফলাফলে সামগ্রিকভাবে পাসের হার আশাব্যঞ্জক না হলেও ব্যতিক্রমী সাফল্য দেখিয়েছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল। উপজেলার মাধ্যমিক শাখায় সর্বোচ্চ সংখ্যক জিপিএ-৫ অর্জনের পাশাপাশি পাসের হারেও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এসএসসি মাধ্যমিক শাখায় কোয়ান্টাম কসমো স্কুল থেকে এ বছর ৭৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

লামা উপজেলায় মাধ্যমিক শাখায় এবার মোট ২৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জনই কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের শিক্ষার্থী। অর্থাৎ উপজেলার মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর প্রায় অর্ধেকই এসেছে এই একটি প্রতিষ্ঠান থেকে।

শুধু সাধারণ এসএসসিতে নয়, ভোকেশনাল শাখাতেও ভালো ফল করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এসএসসি ভোকেশনাল ও দাখিল ভোকেশনাল শাখায় কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের ৬৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এ শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন এবং পাসের হার ৯৪ দশমিক ২০ শতাংশ।

অন্যদিকে, লামা উপজেলার সামগ্রিক ফলাফলে মাধ্যমিক শাখায় ১ হাজার ১১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৫২৫ জন। পাসের হার ৪৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। দাখিল শাখায় ১২৩ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫৮ জন, পাসের হার ৪৭ দশমিক ১৫ শতাংশ। কারিগরি বা ভোকেশনাল শাখায় ১১৬ জনের মধ্যে ৯৬ জন পাস করেছে, পাসের হার ৮২ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

এই সামগ্রিক ফলাফলের মধ্যে কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের ৯৪ শতাংশের বেশি পাসের হার এবং ১৩টি জিপিএ-৫ প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক সাফল্যকে আলাদা করে তুলেছে। বিশেষ করে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এমন ফলাফল স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ফল প্রকাশের পর আনন্দের আমেজ দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষকদের নিবিড় তদারকি, শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায় এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার সমন্বয়েই ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল করা সম্ভব হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, পাহাড়ি ও অপেক্ষাকৃত দুর্গম জনপদে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ভালো ফলাফলের পাশাপাশি এ ধরনের প্রতিষ্ঠান পার্বত্য এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এবং প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থায় এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এদিকে লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের লামা স্বপ্নকানন বিদ্যাপীঠও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল করেছে। নতুন ও পুরোনো শিক্ষার্থী মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ৩৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়টির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৭৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিকতা, শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায় এবং অভিভাবকদের সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এবারের ফলাফল সেই সম্মিলিত প্রচেষ্টার ইতিবাচক প্রতিফলন বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *