মানিকছড়িতে সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল ক্যাম্প, বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন ১৩০ জন
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিন্দুকছড়ি জোন। একই সঙ্গে অসহায় মানুষের মধ্যে হুইল চেয়ার ও ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর এ মানবিক উদ্যোগে স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলার ১ নম্বর মানিকছড়ি ইউনিয়নের মানিকছড়ি ইংলিশ স্কুল মাঠে এ মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।
সিন্দুকছড়ি জোনের আয়োজনে মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন এম এম আকিফ ইউসুফ নাজীব-এর নেতৃত্বে পরিচালিত ক্যাম্পে ১৩০ জন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়।

ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা নেওয়া রোগীদের মধ্যে ৭০ জন পাহাড়ি এবং ৬০ জন বাঙালি। এলাকাটি পাহাড়ি অধ্যুষিত হওয়ায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় চিকিৎসাকেন্দ্রে যাতায়াতের সীমাবদ্ধতা ও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক মানুষ সময়মতো চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন না। এমন বাস্তবতায় স্থানীয় পর্যায়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়ার সুযোগটি সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মেডিক্যাল ক্যাম্পে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশু চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হয়। ফলে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর চিকিৎসা ব্যয়ের চাপও কিছুটা কমেছে।

চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি অসহায় ও শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সিন্দুকছড়ি জোন। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মানিকছড়ি ইংলিশ স্কুল মাঠে দুজন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে দুটি হুইল চেয়ার এবং তিনজন অসহায় ব্যক্তির মধ্যে তিন বান ঢেউটিন বিতরণ করা হয়।
হুইল চেয়ার পেয়েছেন চেংগুছড়া গ্রামের হাবিল মিয়া ও তিনটহরী গ্রামের মালতি মারমা। অন্যদিকে মনাঠন পাড়ার কুমার চাকমা, কঞ্জুরি পাড়ার ক্রাংনিয় মারমা এবং দশবিল গ্রামের আবুল খায়েরের মধ্যে ঢেউটিন বিতরণ করা হয়।
সিন্দুকছড়ি জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. মাজহার হোসেন রাব্বানী ও খাগড়াছড়ির এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এসব সহায়তা সামগ্রী হস্তান্তর করা হয়।

হুইল চেয়ার ও ঢেউটিন পেয়ে সুবিধাভোগীরা আনন্দ প্রকাশ করেন। স্থানীয়দের মতে, প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী অসচ্ছল মানুষের জন্য এ ধরনের সহায়তা শুধু তাৎক্ষণিক প্রয়োজনই পূরণ করে না, বরং তাদের জীবনযাত্রাকে কিছুটা সহজ করে এবং সংকট মোকাবিলায় সাহস জোগায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, পাহাড়ি এলাকায় অনেক সময় ছোটখাটো অসুস্থতার জন্যও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হয়। আর্থিক সংকটের কারণে অনেক পরিবার চিকিৎসা করাতেও হিমশিম খায়। এ অবস্থায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নিজ এলাকায় চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়ায় সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়েছেন। একই সঙ্গে অসহায়দের প্রয়োজন অনুযায়ী হুইল চেয়ার ও নির্মাণসামগ্রী দেওয়ার উদ্যোগকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পাহাড়ের প্রত্যন্ত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ ধরনের মানবিক সহায়তা স্থানীয় পর্যায়ে পারস্পরিক আস্থা, সম্প্রীতি ও সহযোগিতার পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের মানুষকে সমানভাবে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনার বিষয়টি এ উদ্যোগের অন্যতম ইতিবাচক দিক।
সুবিধাভোগীরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের আশা, নিয়মিতভাবে এমন মেডিক্যাল ক্যাম্প ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হলে দুর্গম এলাকার অসহায় মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নয়নে তা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।