পাহাড়ি ঢলে সাজেক সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত, বিকেলে পুনরায় যান চলাচল শুরু

পাহাড়ি ঢলে সাজেক সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত, বিকেলে পুনরায় যান চলাচল শুরু

পাহাড়ি ঢলে সাজেক সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত, বিকেলে পুনরায় যান চলাচল শুরু
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক ভ্যালির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। শনিবার সকালে বাঘাইহাট এলাকার সড়কের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় পর্যটকবাহীসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের দুই পাশে আটকা পড়ে শত শত পর্যটকবাহী গাড়ি।

তবে বিকেলের দিকে পানি কিছুটা কমে গেলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় সড়কে পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়। পরে আটকে থাকা পর্যটকবাহী গাড়িগুলো নিরাপদে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। একই সময়ে নতুন করে কয়েকটি পর্যটকবাহী গাড়ি সাজেকের দিকে প্রবেশ করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ও সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে টানা ছুটিতে মেঘের রাজ্য হিসেবে পরিচিত সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। আগে থেকেই বিপুলসংখ্যক পর্যটক সাজেকে অবস্থান করছিলেন। শনিবার সকাল ও বিকেলের এসকর্টে পর্যটকদের সাজেক থেকে বের হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বাঘাইহাট এলাকার নিচু অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল।

এতে সাজেক থেকে বের হতে না পেরে পর্যটকবাহী অনেক গাড়ি সড়কের দুই পাশে আটকা পড়ে। একইভাবে সাজেকের উদ্দেশে আসা কিছু গাড়িও বাঘাইহাট এলাকায় আটকে যায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্টরা তৎপর হন।

পরে বিকেলের দিকে বৃষ্টির তীব্রতা কমে এবং সড়কের ওপর জমে থাকা পানি কিছুটা নেমে গেলে সেনাবাহিনী ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পর্যটকবাহী গাড়িগুলো পর্যায়ক্রমে চলাচল শুরু করলে আটকে থাকা পর্যটকরা নিরাপদে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন।

সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মন বলেন, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে সাজেকের প্রায় ৮০ শতাংশ রুম আগে থেকেই বুকিং ছিল। বিপুলসংখ্যক পর্যটক সাজেকে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বাঘাইহাট এলাকার নিচু অংশ প্লাবিত হওয়ায় কিছু সময়ের জন্য সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, বিকেলের দিকে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। শনিবার সকাল ও বিকেল মিলিয়ে অন্তত ১ হাজার ৫০০ পর্যটক সাজেক থেকে নিরাপদে বের হয়ে গেছেন। একই সময়ে নতুন করে প্রায় ৮৫০ জন পর্যটক সাজেকে প্রবেশ করেছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাজেক-বাঘাইহাট সড়কের কয়েকটি নিচু অংশে বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে প্রায়ই পানি উঠে যায়। ফলে পর্যটকবাহী যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পর্যটকদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। এ কারণে বর্ষা মৌসুমে সাজেক সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ ও নিচু অংশগুলোতে আগাম সতর্কতা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয়রা।

শনিবার বিকেলে পানি কমে যাওয়ার পর যান চলাচল শুরু হওয়ায় সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে পর্যটক ও যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *