কক্সবাজারে সেনাপ্রধানের এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিং পরিদর্শন, উদ্বোধন করলেন ‘সেনানীড়-৩’
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
কক্সবাজারের নিদানিয়া এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিং রেঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাৎসরিক এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিং পরিদর্শন করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এ সময় তিনি সেনাবাহিনীর এয়ার ডিফেন্স সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় করতে পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সর্বোচ্চ অপারেশনাল প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত বাৎসরিক এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিংয়ের অংশ হিসেবে নিদানিয়া এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিং রেঞ্জ পরিদর্শন করেন সেনাবাহিনী প্রধান। এ সময় তিনি ফায়ারিং কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থার সক্ষমতা, দক্ষতা ও প্রস্তুতি ধরে রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক ও কার্যকর এয়ার ডিফেন্স সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আধুনিক যুদ্ধকৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেনাসদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি সর্বোচ্চ মাত্রার অপারেশনাল প্রস্তুতি বজায় রাখতে হবে।
সেনাবাহিনীর নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও ফায়ারিং অনুশীলনের মাধ্যমে সদস্যদের বাস্তব পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বাড়ানো হয়। বিশেষ করে আকাশপথের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় এয়ার ডিফেন্স ইউনিটগুলোর দক্ষতা ও সমন্বিত প্রস্তুতি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এ ধরনের ফায়ারিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এদিকে একই দিনে রামু সেনানিবাসে জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও) ও অন্যান্য পদবির সেনাসদস্যদের আবাসন সংকট নিরসনে নির্মিত ১০ তলাবিশিষ্ট আধুনিক আবাসিক ভবন ‘সেনানীড়-৩’ উদ্বোধন করেন সেনাবাহিনী প্রধান।
আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের অধীনে নির্মিত ভবনটিতে সেনাসদস্যদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এ আবাসিক ভবন সেনাসদস্যদের আবাসন সংকট কমানোর পাশাপাশি তাঁদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সেনাসদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে আবাসনসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগকে সেনাবাহিনীর মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কল্যাণ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কর্মপরিবেশের পাশাপাশি উন্নত আবাসন সুবিধা নিশ্চিত হলে সেনাসদস্যদের মনোবল, কর্মদক্ষতা ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
‘সেনানীড়-৩’ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে রামু সেনানিবাসে জেসিও ও অন্যান্য পদবির সেনাসদস্যদের দীর্ঘদিনের আবাসন-সংক্রান্ত চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ সময় সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অব দি অর্ডন্যান্স, বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির কমান্ড্যান্ট, ১০ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ও কক্সবাজার এরিয়া কমান্ডার, সেনাসদর এবং সংশ্লিষ্ট এরিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একই দিনে সামরিক সক্ষমতা ও অপারেশনাল প্রস্তুতি পরিদর্শনের পাশাপাশি সেনাসদস্যদের আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণ—সেনাবাহিনীর পেশাগত দক্ষতা ও সদস্যদের কল্যাণকে সমান্তরালে এগিয়ে নেওয়ার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের নিরাপত্তা সক্ষমতা শক্তিশালী করার পাশাপাশি সেনাসদস্যদের জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।