দুই দফা তদন্তে মিলল প্রমাণ, তবুও বহাল তবিয়তে ‘ভারতীয়’ প্রধান শিক্ষক

দুই দফা তদন্তে মিলল প্রমাণ, তবুও বহাল তবিয়তে ‘ভারতীয়’ প্রধান শিক্ষক

দুই দফা তদন্তে মিলল প্রমাণ, তবুও বহাল তবিয়তে ‘ভারতীয়’ প্রধান শিক্ষক
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার খড়িয়া নবারুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের তদন্তে তার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকত্বের প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা খুলনা অঞ্চলের কার্যালয়ের তদন্তেও একই তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এরপরও ওই শিক্ষক বিদ্যালয়ে বহাল রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এখন ভারতীয় হাইকমিশনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত ১৩ আগস্ট বিভিন্ন পত্রিকায় ‘ভোটার ভারতের, প্রধান শিক্ষক বাংলাদেশের স্কুলে’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

১৬ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা খুলনা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামানের কার্যালয়ে তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই তদন্তেও দীপক চন্দ্র সরকারের ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এর আগে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও একই অভিযোগ তদন্ত করে। তদন্ত প্রতিবেদনে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ভোটার তালিকার তথ্য উল্লেখ করে তার ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়।

গত ২৭ আগস্ট মাউশির সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক-২) এস এম মোসলেম উদ্দিন পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য বিদ্যালয়ের সভাপতি, প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার ও অভিযোগকারী প্রকাশ চন্দ্র সরকারকে ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় সশরীরে শুনানিতে উপস্থিত হতে বলেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অভিযুক্ত শিক্ষক, অভিযোগকারী ও মাউশির বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শুনানি শেষে মাউশির উপপরিচালক (মাধ্যমিক) মো. জাকির হোসেন বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ও অভিযোগকারীর বক্তব্য শুনেছি। প্রত্যেকেই নিজেদের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক ভারতীয় নাগরিক কি না, তা নিশ্চিত হতে ভারতীয় হাইকমিশনে চিঠি দেওয়া হবে। তাদের উত্তর পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে খুলনা জেলা প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব ছাড়াও বিদ্যালয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার তথ্যের ভিত্তিতে দীপক চন্দ্র সরকারের ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। এ কারণে বিদেশি নাগরিকের এমপিওভুক্ত পদে বহাল থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে মাউশির কাছে চিঠি পাঠিয়ে এ বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়।

শুনানি শেষে অভিযোগকারী প্রকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার ভারতের নাগরিক ও ভোটার। তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে নিয়োগ-বাণিজ্যেরও অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে তার এমপিও বাতিলের দাবি জানান তিনি।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, নিয়োগ-বাণিজ্যের অর্থ ভারতে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার বড়শুল এলাকায় দীপক চন্দ্র সরকার একটি বাড়ি করেছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার। তিনি বলেন, আমি ভারতের নাগরিক নই। জাল-জালিয়াতি করে অভিযোগকারী আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন নথি তৈরি করেছেন।

মাউশির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ভারতীয় হাইকমিশনের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের নাগরিকত্বের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed