টেকনাফে ১৬ এপিবিএনের বিশেষ যৌথ অভিযান, দুই কুখ্যাত ডাকাতসহ গ্রেপ্তার ৪
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
কক্সবাজারের টেকনাফে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ক্যাম্প এলাকায় বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানে দুই কুখ্যাত ডাকাত, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, পুলিশ এসল্ট মামলার এজাহারনামীয় আসামিসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ১১ জনকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প এলাকায় একযোগে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ ১৬ ব্যাটালিয়ন এপিবিএনের অধিনায়ক এডিশনাল ডিআইজি মোহাম্মদ কাউছার সিকদার।
এপিবিএন সূত্র জানায়, টেকনাফের ক্যাম্প এলাকাগুলোতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং জননিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে সমন্বিতভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ১৬ এপিবিএন, জেলা পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, ব্যাটালিয়ন আনসার ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মোট ১৩৫ জন কর্মকর্তা ও সদস্য অংশ নেন।
অভিযানের শুরুতেই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুখ্যাত ডাকাত আরাফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা চলছিল।

পৃথক অভিযানে একাধিকবারের প্রচেষ্টার পর কুখ্যাত ডাকাত হাসানকেও গ্রেপ্তার করা হয়। ২৫ বছর বয়সী হাসানের বিরুদ্ধেও দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া বিশেষ যৌথ অভিযানের সময় পুলিশ এসল্ট মামলার একজন এজাহারনামীয় আসামি এবং নিয়মিত মামলার আরও একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের বিভিন্ন ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে মোট পাঁচটি ওয়ারেন্ট তামিল করা হয়েছে বলেও অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মোবাইল কোর্টে ১১ জনের কারাদণ্ড
বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় অনলাইন জুয়া, পুলিশি কাজে বাধাদানসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ১১ জনকে আটক করে মোবাইল কোর্টে হাজির করা হয়।
পরে মোবাইল কোর্ট তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন।
অভিযান সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ যৌথ অভিযানে পাঁচটি ওয়ারেন্ট তামিলের পাশাপাশি পুলিশ এসল্ট মামলার একজন এজাহারনামীয় আসামি ও নিয়মিত মামলার একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১১ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন সমন্বিত অভিযানের ফলে টেকনাফের ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে নজরদারি আরও জোরদার হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

টেকনাফে মাদক পাচার, ডাকাতি, অনলাইন জুয়া, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি এ ধরনের বিশেষ যৌথ অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বিত অংশগ্রহণের ফলে একই সময়ে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, চিহ্নিত অপরাধী ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
এডিশনাল ডিআইজি মোহাম্মদ কাউছার সিকদার জানান, টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক, জুয়া, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।