দুর্গম পাহাড়ে প্রান্তিক কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে সেনাবাহিনীর আধুনিক কৃষি প্রশিক্ষণ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
দুর্গম পাহাড়ি এলাকার প্রান্তিক কৃষকদের কৃষিকাজে আরও দক্ষ, আধুনিক ও স্বাবলম্বী করে তুলতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লক্ষ্মীছড়ি জোনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় দুই সপ্তাহব্যাপী আধুনিক কৃষি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাহাড়ের দুর্গম জনপদে বসবাসকারী কৃষকদের জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও টেকসই করে তুলতে নেওয়া এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে।
আজ দুল্লাতলী ইউনিয়ন ও আশপাশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ২০ জন প্রান্তিক কৃষকের অংশগ্রহণে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটির উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দুল্লাতলী আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার মেজর নাহিয়ান ইমতিয়াজ, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মন এবং দুল্লাতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ত্রিলন চাকমা উপস্থিত ছিলেন।
পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকের বাস্তবতা সমতলের তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা, কৃষি উপকরণের সীমিত প্রাপ্যতা, আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণার অভাব এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেই এসব এলাকার কৃষকদের কৃষিকাজ পরিচালনা করতে হয়। ফলে শুধু কৃষি উপকরণ সরবরাহ নয়, কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষিত করে তোলা তাদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাবলম্বিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষ্মীছড়ি জোনের এই উদ্যোগ সেই প্রয়োজনকে সামনে রেখেই নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
দুই সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণে পাহাড়ি এলাকার মাটি, আবহাওয়া ও স্থানীয় কৃষি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক ও টেকসই কৃষি পদ্ধতি, ফসল উৎপাদন এবং কৃষি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কৃষকদের হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হবে। এর ফলে প্রচলিত কৃষি পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক কৌশল সম্পর্কে কৃষকদের জ্ঞান বাড়বে এবং সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের উৎসাহিত করতে তাদের মধ্যে সনদপত্র, সার, বীজ ও বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হবে। প্রশিক্ষণের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ যুক্ত হওয়ায় কৃষকেরা অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগেরও সুযোগ পাবেন। এতে প্রশিক্ষণটি কেবল আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না থেকে কৃষকদের বাস্তব জীবনে কাজে লাগবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় কৃষকদের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। কারণ কৃষককে শুধু সহায়তা দেওয়ার পরিবর্তে তাকে আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ করে তোলা হলে দীর্ঘমেয়াদে তার নিজের আয় ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ে। এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি জনপদে যেখানে কৃষিই বহু পরিবারের জীবিকার প্রধান অবলম্বন, সেখানে কৃষির আধুনিকায়নে সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগ মানুষের পাশে থাকার একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারি কৃষি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রশিক্ষণ আয়োজনের ফলে স্থানীয় কৃষকেরা একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক কৃষি পরামর্শ ও বাস্তবভিত্তিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রান্তিক কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সহায়তার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো গেলে পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থারও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। পাশাপাশি কৃষকদের মধ্যে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে ভবিষ্যতে কৃষিকে আরও লাভজনক ও টেকসই পেশায় পরিণত করার সুযোগ তৈরি হবে।
দুর্গম এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্বাবলম্বিতা বাড়াতে নিরাপত্তার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন এলাকায় দৃশ্যমান। লক্ষ্মীছড়ির দুল্লাতলীতে প্রান্তিক কৃষকদের নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণও সেই ধারার একটি উদ্যোগ। দুর্গম পাহাড়ের কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর এই প্রচেষ্টা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং পাহাড়ের সাধারণ মানুষের সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।