দীঘিনালায় ফুটবল ঘিরে সম্প্রীতির মেলবন্ধন, প্রীতি ম্যাচে লংগদুর জয়
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
খেলাধুলার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করার উদ্যোগ হিসেবে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ফুটবল প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দীঘিনালা সেনা জোনের আয়োজনে ‘দীঘিনালা ফুটবল কাপ টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর অংশ হিসেবে দীঘিনালা উপজেলা ও লংগদু উপজেলার মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে ৩-২ গোলে জয় পেয়েছে লংগদু উপজেলা একাদশ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ খেলাকে ঘিরে মাঠে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। খেলা উপভোগ করতে পাহাড়ি ও বাঙালি নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সের প্রায় দুই হাজার দর্শক উপস্থিত হন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় স্থানীয় জনগণের মিলনমেলায়।
খেলায় শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। নির্ধারিত সময়ের খেলায় দীঘিনালা উপজেলা একাদশের বিপক্ষে তিনটি গোল করে লংগদু উপজেলা একাদশ। বিপরীতে দীঘিনালা উপজেলা দুটি গোল করতে সক্ষম হয়। ফলে ৩-২ গোলের ব্যবধানে জয় পায় লংগদু।
খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা সেনা জোনের মেজর মো. তৌকির আহমেদ। এ ছাড়া দীঘিনালা জোনের অ্যাডজুটেন্ট ক্যাপ্টেন মো. জাহিদ হাসান জয়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো বৈচিত্র্যময় এলাকায় খেলাধুলার আয়োজন স্থানীয় জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতি বাড়ানোর একটি কার্যকর মাধ্যম। একই মাঠে বিভিন্ন এলাকার খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ এবং পাহাড়ি-বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর মানুষের একসঙ্গে খেলা উপভোগ করার সুযোগ সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার পরিবেশ তৈরি করে।

সেনাবাহিনীর উদ্যোগে এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজনের গুরুত্ব শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশেষ করে তরুণদের নিয়মিত খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি শৃঙ্খলা, দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা, নেতৃত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার মতো গুণাবলি বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়। খেলাধুলার ইতিবাচক পরিবেশ তরুণদের বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অপরাধ ও মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখার ক্ষেত্রেও সহায়ক হতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় প্রতিভাবান অনেক তরুণ নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এ ধরনের টুর্নামেন্ট ও প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের মাধ্যমে তাদের নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের পাশাপাশি অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে ফুটবলকে ঘিরে নতুন খেলোয়াড় তৈরির সম্ভাবনাও বাড়ে।
প্রায় দুই হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এ আয়োজনের প্রতি স্থানীয় জনগণের আগ্রহেরও প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মাঠে নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন বয়সী দর্শকদের অংশগ্রহণ খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগের পরিসর বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে।
দীঘিনালা সেনা জোনের এ আয়োজনকে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি হলে তরুণদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে একটি সুস্থ ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতেও এমন আয়োজন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
‘দীঘিনালা ফুটবল কাপ টুর্নামেন্ট-২০২৬’-কে ঘিরে আয়োজিত এ প্রীতি ম্যাচে জয়-পরাজয়ের পাশাপাশি বড় হয়ে উঠেছে মানুষের অংশগ্রহণ ও মিলনের বিষয়টি। সেনাবাহিনীর উদ্যোগে মাঠকেন্দ্রিক এমন আয়োজন স্থানীয় তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি ক্রীড়া ও সামাজিক সম্প্রীতির চর্চাকে এগিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ তৈরি করেছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।