লংগদুতে এনআইডি সংশোধনের নামে ৪৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ

লংগদুতে এনআইডি সংশোধনের নামে ৪৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ

লংগদুতে এনআইডি সংশোধনের নামে ৪৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার বগাচতর ইউনিয়ন পরিষদের এক ডিজিটাল উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের নামে ৪৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার আশ্বাসে ওই টাকা নেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেছে, এখনো তাঁর মায়ের এনআইডির সংশোধন কিংবা পরিবারের আরও পাঁচটি জন্মনিবন্ধনের কোনো কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। অতিরিক্ত পাঁচ হাজার টাকা না দেওয়ায় কাজ আটকে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগী আরজু মিয়া জানান, গত ১০ জুলাই তাঁর মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম সংশোধনের জন্য বগাচতর ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল উদ্যোক্তা জালালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। শুরুতে উদ্যোক্তা ১২ হাজার টাকা দাবি করলেও পরে তাঁদের মধ্যে ৪৫ হাজার টাকায় কাজটি সম্পন্ন করার বিষয়ে চুক্তি হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নাম সংশোধন করে সংশোধিত জাতীয় পরিচয়পত্র বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন আরজু মিয়া।

তিনি বলেন, মায়ের এনআইডির পাশাপাশি পরিবারের আরও পাঁচটি জন্মনিবন্ধনের কাজও ওই উদ্যোক্তার কাছে দেওয়া হয়। দ্রুত কাজ সম্পন্ন হবে—এমন আশ্বাস পাওয়ার পর জমি বন্ধক রেখে ৪৫ হাজার টাকা দেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কাগজপত্র হাতে পাননি।

আরজু মিয়ার অভিযোগ, ‘দ্রুত কাজ হবে’—এমন আশ্বাসে জমি বন্ধক রেখে ৪৫ হাজার টাকা দিয়েছি। এখন আরও পাঁচ হাজার টাকা দিতে না পারায় সব কাজ আটকে রাখা হয়েছে। টাকা দেওয়ার পরও যদি কাজ সম্পন্ন না হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাব—এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেননি অভিযুক্ত ডিজিটাল উদ্যোক্তা জালাল। তাঁর দাবি, আরজু মিয়া নিজেই তাঁর মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম পরিবর্তনের জন্য তাঁর কাছে এসেছিলেন। প্রয়োজন হলে লিখিত চুক্তি করার কথাও ভুক্তভোগী নিজেই বলেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে তাঁর অনুরোধেই কাজটি করা হয়েছে। এ কাজে নেওয়া অর্থের বড় একটি অংশ বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যয় হয়েছে বলেও দাবি করেন জালাল।

বগাচতর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বাশার বলেন, ওই ডিজিটাল উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগের কথা শুনেছেন তিনি। তবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা লিখিত অভিযোগ না থাকায় এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমান ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

লংগদু উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাঈনুল হক বলেন, লংগদু নির্বাচন অফিস থেকে এ ধরনের কোনো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়নি। জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। বিষয়টি কোথা থেকে এবং কীভাবে করা হয়েছে, তা তাঁর জানা নেই। তবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।

লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম পরিবর্তন বা এ ধরনের কাজ করার কোনো বিধান নেই। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি সেবাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ স্থানীয় পর্যায়ে সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদিত প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো ব্যক্তি অর্থের বিনিময়ে এনআইডি সংশোধনের কাজ করে থাকলে তা কীভাবে হয়েছে, অর্থের বিনিময়ে কী ধরনের সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল এবং ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নেওয়া ৪৫ হাজার টাকার প্রকৃত ব্যবহার কী—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা হোক। একই সঙ্গে সরকারি সেবার নামে কেউ যেন অননুমোদিতভাবে অর্থ আদায় করতে না পারে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *