রুমায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ শুরু, কৃষকদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ সেনাবাহিনীর
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম এলাকার কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করা, কৃষি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৃষিতে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে রিজিয়ন পর্যায়ে কৃষি প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। তিন সপ্তাহব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ, কৃষি ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যতে কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সেনাবাহিনীর বান্দরবান রিজিয়নের ব্যবস্থাপনায় এবং রুমা জোনের পরিচালনায় এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
এতে রুমা উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকা থেকে আসা কৃষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা অংশ নেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার কৃষকদের একত্র করে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি কৃষিকাজকে আয় ও কর্মসংস্থানের একটি টেকসই মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিন সপ্তাহের এই প্রশিক্ষণে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, কৃষি ব্যবস্থাপনা এবং কৃষির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের কীভাবে কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে, উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তি কীভাবে কাজে লাগাতে হবে এবং কৃষিকাজকে আরও লাভজনক ও পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করা যায়—এসব বিষয়েও প্রশিক্ষণার্থীদের ধারণা দেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রুমা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নেছারুল হক আশিফ, রুমা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম ফরিদুল হক, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আল হাসির গজনফর আলী, উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ভবতোষ চক্রবর্তী এবং স্থানীয় নার্সারি মালিক কেউসিং মারমা। এছাড়া বিভিন্ন দুর্গম এলাকা থেকে আসা প্রশিক্ষণার্থী, রুমা উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নেছারুল হক আশিফ বলেন, এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো কৃষকদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা এবং কৃষি বিষয়ে তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা। একজন সাধারণ কৃষক যেন ধীরে ধীরে একজন সফল ও স্বাবলম্বী কৃষক এবং ভবিষ্যতে একজন কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন, সেটিই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, আগের তুলনায় কৃষিতে আরও বেশি স্বাবলম্বী হওয়াই তাদের উদ্দেশ্য। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও নতুন নতুন পদ্ধতির সঙ্গে কৃষকদের পরিচিত করার মাধ্যমে কৃষিকাজে তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের নিজেদের উদ্যোগে কৃষিকাজকে আরও পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রুমা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম ফরিদুল হক বলেন, কৃষি বিষয়ে আরও ভালোভাবে জ্ঞান অর্জন করতে এবং কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেতে কৃষকরা উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। তবে নিজেদের উদ্যোগ নিয়েই কাজ করতে হবে। উদ্যোগ নিজের ভেতর থেকে আসতে হবে। কৃষকদের পাশে উপজেলা কৃষি অফিস রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা ও সেবা দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ করে কৃষিকাজ পরিচালনা করা জরুরি। আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃষি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে পারলে কৃষকরা আগের তুলনায় আরও ভালোভাবে কৃষিকাজ পরিচালনা করতে পারবেন এবং কৃষি খাতে নিজেদের উন্নতি করার সুযোগ তৈরি হবে।
উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ভবতোষ চক্রবর্তী বলেন, রুমা উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তারা দুর্গম এলাকায় কৃষির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। দুর্গম এলাকার কৃষকদের একত্র করে এ ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরাও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও কৃষি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সরাসরি জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, তিন সপ্তাহব্যাপী এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের কৃষিতে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাদের কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে কৃষকরা নিজেদের কৃষিকাজকে আরও আধুনিক ও পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করতে পারবেন।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কৃষকরাও এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, তিন সপ্তাহব্যাপী এই প্রশিক্ষণ তাদের কৃষি বিষয়ে নতুন জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছে। প্রচলিত কৃষি পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে কৃষিকাজকে আরও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে তারা নতুনভাবে জানার সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের আরও দক্ষ করে গড়ে তুলে কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে তাদের। কৃষিকে শুধু জীবিকা হিসেবে নয়, পরিকল্পিতভাবে আয় ও স্বাবলম্বিতার একটি ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই প্রশিক্ষণ তাদের উৎসাহিত করেছে বলেও তারা জানান।
প্রশিক্ষণার্থীরা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নেছারুল হক আশিফসহ প্রশিক্ষণ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তাদের মতে, দুর্গম এলাকার কৃষকদের জন্য নিয়মিত এ ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণের পাশাপাশি কৃষকদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগও আরও বৃদ্ধি পাবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রুমার মতো দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা এবং কৃষি ব্যবস্থাপনায় দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ স্থানীয় কৃষির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে কৃষকদের নিজস্ব উদ্যোগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হলে দুর্গম এলাকার কৃষি উৎপাদন ও কৃষিভিত্তিক আয় বৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।