বাঘাইছড়িতে অসচ্ছল মানুষের পাশে ২৭ বিজিবি, শিক্ষা-চিকিৎসা ও স্বাবলম্বিতায় সহায়তা
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়িতে সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় চার অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সম্প্রীতি ও উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা, উন্নত চিকিৎসা, স্বাবলম্বিতা ও বসতঘর মেরামতের জন্য তাদের আর্থিক ও উপকরণ সহায়তা দিয়েছে মারিশ্যা জোন (২৭ বিজিবি)।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাঘাইছড়ি উপজেলার দরিদ্র ও অসচ্ছল শিক্ষার্থী জিরান আক্তারকে লেখাপড়ার খরচ হিসেবে ৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে টিএন্ডটি কলোনির বাসিন্দা মো. সফিকুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেওয়া হয় আরও ৫ হাজার টাকা।
এ ছাড়া কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা রোনা আক্তারকে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও আয়মুখী কাজে সহায়তার লক্ষ্যে একটি সেলাই মেশিন দেওয়া হয়েছে। পুরানবস্তী এলাকার কোহিনুর আক্তারকে তাঁর পুরোনো ও জরাজীর্ণ ঘর মেরামতের জন্য দেওয়া হয়েছে এক বান ঢেউটিন।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অনেক দরিদ্র পরিবারের জন্য শিক্ষা, চিকিৎসা, বসতঘর সংস্কার কিংবা আয়মুখী কোনো উদ্যোগে প্রাথমিক সহায়তা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। এমন বাস্তবতায় প্রয়োজন অনুযায়ী সরাসরি আর্থিক সহায়তা ও উপকরণ দেওয়ার এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন সংকট মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেওয়ার পাশাপাশি স্বাবলম্বিতা তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ করে একজন শিক্ষার্থীর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আর্থিক সহায়তা যেমন শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার সুযোগ তৈরি করে, তেমনি একটি সেলাই মেশিন একজন নারীকে ঘরে বসে আয় করার সুযোগ দিতে পারে। অন্যদিকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা অসচ্ছল পরিবারের জন্য জরুরি চিকিৎসা গ্রহণের পথ কিছুটা সহজ করে। জরাজীর্ণ ঘর মেরামতের জন্য ঢেউটিন দেওয়ার মাধ্যমে একটি পরিবারের নিরাপদ বসবাসের পরিবেশ তৈরিতেও সহায়তা করা হয়েছে।

মারিশ্যা জোন (২৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, ‘বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’—এই মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। শান্তি ও সম্প্রীতির এ ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বিজিবির এ ধরনের উদ্যোগ সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এলাকার মানুষের সঙ্গে বাহিনীর পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার সুযোগ তৈরি করছে। সীমান্ত নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবনযাত্রা ও স্বাবলম্বিতার মতো মৌলিক প্রয়োজনের পাশে দাঁড়ানোয় এসব কার্যক্রম জনকল্যাণের ক্ষেত্রেও তাৎপর্য বহন করছে।
সহায়তা প্রদানকালে মেজর অমিত কুমার সাহা এবং সহকারী পরিচালক দিলিপ কুমার বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন। মারিশ্যা জোন জানিয়েছে, দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মানুষের প্রয়োজন ও সক্ষমতা অনুযায়ী ভবিষ্যতেও সম্প্রীতি ও উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।