মিরিঞ্জা রয়েল হিল রিসোর্টে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে ৩ দাবি

মিরিঞ্জা রয়েল হিল রিসোর্টে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে ৩ দাবি

মিরিঞ্জা রয়েল হিল রিসোর্টে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে ৩ দাবি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

বান্দরবানের লামা উপজেলার মিরিঞ্জা পর্যটন এলাকায় অবস্থিত ‘মিরিঞ্জা রয়েল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ জোরপূর্বক দখল, হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদাবাজির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রিসোর্টটির অংশীদাররা। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) লামার স্থানীয় একটি হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রিসোর্টের অংশীদার মো. সুলতান মাহমুদের পক্ষে অপর অংশীদার জাফর মিয়া। লিখিত বক্তব্যে রিসোর্টে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ তুলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, লামা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কলিঙ্গারবিল এলাকার জাফর মিয়া এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বড় নুনারনবিল পাড়ার বাসিন্দা মো. সুলতান মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে অংশীদারির ভিত্তিতে ‘মিরিঞ্জা রয়েল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ পরিচালনা করে আসছিলেন। তাঁদের দাবি, জমির মূল মালিক দুলাল মিয়ার সঙ্গে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনের পর মো. রাসেল চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি টাকা বুঝে নিয়ে অংশীদারি থেকে সরে যান এবং এরপর অংশীদাররা শেয়ার বুঝে নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।

তবে পরবর্তীতে রাসেল চৌধুরীসহ একটি চক্র রিসোর্টের অংশীদারিত্ব দাবি করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদা দাবি করতে শুরু করে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর আনুমানিক দুপুর ২টার দিকে মো. রাসেল চৌধুরীর নেতৃত্বে শিশির স্বপন চাকমা, সঞ্জিতা চাকমা, মো. আরিফুল ইসলাম, শাহাব উদ্দিন, আলা উদ্দিনসহ ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল রিসোর্টে প্রবেশ করে। অভিযোগকারীদের দাবি, পূর্বে দাবি করা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় তারা রিসোর্টে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

হামলায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে মো. সুলতান মাহমুদ ও জাফর মিয়াকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি মোবাইল ফোন, যার আনুমানিক মূল্য ৪৫ হাজার টাকা, একটি অপ্পো মোবাইল ফোন, যার মূল্য প্রায় ৩৫ হাজার টাকা, নগদ ৭৫ হাজার টাকা এবং আধা ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের আংটি, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৭ হাজার টাকা, নিয়ে যায়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে রাসেল চৌধুরী রিসোর্টের একটি ক্যাবল কেটে তা দিয়ে সুলতান মাহমুদের গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রথম দফা হামলার পরও ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সুলতান মাহমুদ ও জাফর মিয়া চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় একটি দল পুনরায় রিসোর্টে হামলা চালিয়ে সেটি জোরপূর্বক দখল করে নেয়। এ সময় চাঁদার টাকা না দিলে রিসোর্ট ফেরত দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনটি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি মো. রাসেল চৌধুরী, শিশির স্বপন চাকমাসহ সকল হামলাকারী ও চাঁদাবাজকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা; জোরপূর্বক দখল করা ‘মিরিঞ্জা রয়েল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা; এবং ভুক্তভোগী ও তাঁদের উদ্ধারকারীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ভুক্তভোগীরা জানান, এ ঘটনায় মো. রাসেল চৌধুরী, শিশির স্বপন চাকমা, সঞ্জিতা চাকমাসহ মোট ১২ জনকে আসামি করে লামা থানায় মামলা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার এবং রিসোর্টটি পুনরুদ্ধারে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কাউছার হামিদ বলেন, দোষী ও অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *