নেপালের ৪ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন নবায়ন ভারতের

নেপালের ৪ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন নবায়ন ভারতের

নেপালের ৪ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন নবায়ন ভারতের

ভোতেকোশি নদীতে গত ২৬ অগাস্ট আকস্মিক বন্যার পর কাদা ও পলিতে প্রায় ঢেকে যাওয়া নেপালের একটি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন। ছবি দ্য কাটমান্ডু পোস্ট

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

নেপালের চারটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন নবায়ন করেছে ভারত।

ফলে এসব প্রকল্প থেকে নেপাল মোট ৯৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারতের কাছে বিক্রি করতে পারবে বলে মঙ্গলবার কাঠমান্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়েছে।

চার জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হলো— আপার চামেলিয়া, সেতি রিভার, আপার তাদি খোলা ও আপার দোরদি।

এর মধ্যে আপার চামেলিয়ার উৎপাদন সক্ষমতা ৩৮ দশমিক ৮ মেগাওয়াট, যেখান থেকে রপ্তানির অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয় গত জুনে।

২৪ দশমিক ২৫ মেগাওয়াটের সেতি রিভার এবং ১০ দশমিক ৭ মেগাওয়াটের আপার তাদি খোলা থেকে রপ্তানির অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয় গত ৩১ জুলাই। আর ২৪ দশমিক ২৫ মেগাওয়াটের আপার দোরদি প্রকল্পের অনুমোদন ছিল গত অগাস্ট পর্যন্ত।

নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (এনইএ) বলেছে, ভারত গত সপ্তাহে তাদের জানিয়েছে যে, এসব প্রকল্পের বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন নবায়ন করা হয়েছে।

অনুমোদন নবায়নে দেরি হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যস্ত সময়ে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। অনুমোদন নবায়নের ফলে সেই আশঙ্কা আর নেই বলে এনইএর তরফে বলা হয়েছে।

নেপাল তাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পর বর্ষা মৌসুমের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ভারত ও বাংলাদেশে রপ্তানি করে থাকে। তবে শুষ্ক শীত মৌসুমে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে উল্টো বিদ্যুৎ আমদানি করতে হয় তাদের।

ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় নেপালকে ৪০০ কেভি ঢালকেবর-মুজাফফরপুর এবং ১৩২ কেভি টানকপুর-মহেন্দ্রনগর সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে জানুয়ারি পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৬৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির অনুমোদন আগেই নবায়ন করেছে। তবে নেপালের প্রকল্পগুলো থেকে আমদানির অনুমোদন এল এতদিনে।

এনইএর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নেপাল প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারতে রপ্তানি করছে।

এদিকে ভোতেকোশি নদীর বন্যার ফলে ত্রিশূলী ও চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ দুটি প্রকল্প থেকে ভারত ও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন ছিল। ফলে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে।

কাবেলি বি-১ ও সোলু খোলা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিদ্যুৎ বাংলাদেশে বিক্রির অনুমোদন এখনও দেয়নি ভারত। এসব প্রকল্প প্রতিযোগিতামূলক দামে ইন্ডিয়ান এনার্জি এক্সচেঞ্জের ডে-অ্যাহেড ও রিয়েল-টাইম বাজারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিক্রির অনুমোদন পেয়েছিল।

ভারতে বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন পাওয়া ১৪ দশমিক ৫৫ মেগাওয়াটের দেবীঘাট জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটিও ভোতেকোশির বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর বিকল্প হিসেবে দ্বিপক্ষীয় বাজারে লোয়ার মোদি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিদ্যুৎ বিক্রির অনুমোদন চেয়েছে এনইএ।

লোয়ার মোদি প্রকল্পের বিদ্যুৎ ভারতীয় এনার্জি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিক্রির অনুমোদন রয়েছে। তবে দ্বিপক্ষীয় বাজারে বিদ্যুৎ বিক্রির অনুমোদন এখনও দেয়নি ভারত।

এনইএর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা প্রতিদিন ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করছেন, কিন্তু এখনও অনুমোদন পাওয়া যায়নি।

ভারতে বিদ্যুৎ বিক্রির অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলোর অনুমোদন প্রতিবছর নবায়ন করতে হয়। একইভাবে নেপালকে বিদ্যুৎ আমদানির অনুমোদনও ভারতকে নবায়ন করতে হয়। ফলে বিদ্যুৎ কেনাবেচা— দুই ক্ষেত্রেই নেপালকে ভারতের নীতির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত ভারত নেপালের ৩৭টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উৎপাদিত বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে। এসব প্রকল্পের সম্মিলিত উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *