ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
বিশ্বের অস্ত্রবাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে এবার মধ্য এশিয়ার দিকে নজর দিচ্ছে ভারত। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা রপ্তানির মাধ্যমে নতুন বাজার তৈরির চেষ্টা করছে দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্প।
ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই উদ্যোগকে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন।
তিনি জানান, আর্মেনিয়া, তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানে ভারতের তৈরি মাঝারি পাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা রপ্তানির বিষয়টি এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সংশ্লিষ্ট এই উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অস্ত্রবাজারে ভারতের উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সিং জানান, ভারতের তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রথম ক্রেতা ছিল আর্মেনিয়া।
দেশটি একাধিক ব্যাটারি কিনেছে। পরে তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানেও এই ব্যবস্থা রপ্তানি করা হয়।
তিনি আরো জানান, বর্তমানে এর উৎপাদন প্রক্রিয়া স্থিতিশীল হয়েছে। ভারতের নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনীর জন্যও এ ব্যবস্থার অতিরিক্ত অর্ডার রয়েছে।
পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ভবিষ্যতে আরো ক্রয়াদেশ আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংয়ের বক্তব্যে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা রপ্তানি নিয়ে আগের একটি প্রতিবেদনও সমর্থন পেয়েছে। ভারতীয় ব্যবসায়িক সাময়িকী বিডব্লিউ বিজনেসওয়ার্ল্ড গত জুলাইয়ে সরকারি তথ্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার রপ্তানি গন্তব্যের তালিকায় রয়েছে।
এ ছাড়া ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, দেশটির প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ক্রেতা হিসেবে নিশ্চিত করেছে। তবে এ বিষয়ে মধ্য এশিয়ার দেশ দুটি এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে মধ্য এশিয়ার দেশগুলো সামরিক সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে সরবরাহকারীর সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে এ অঞ্চলের সামরিক বাহিনীগুলোর অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের বড় অংশ এখনো সোভিয়েত আমলের নকশা এবং রুশ প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি এসব দেশের সামরিক সরঞ্জামের তালিকায় চীন, তুরস্ক, ভারত ও পশ্চিমা দেশগুলোর তৈরি অস্ত্রও যুক্ত হচ্ছে।
তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানে ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানির বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। দেশ দুটি কতটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কিনেছে, কবে সেগুলো সরবরাহ করা হয়েছে কিংবা চুক্তির মূল্য কত—এসব বিষয়ও স্পষ্ট নয়। তবে আর্মেনিয়ার কাছে ভারতের অস্ত্র রপ্তানির বিষয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি তথ্য পাওয়া যায়।
২০২২ সালে আর্মেনিয়া ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ভারত ডায়নামিকস লিমিটেডের সঙ্গে ৭২০ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি করে। এতে নির্দিষ্ট সংখ্যার আকাশ ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৫টি অশ্বিন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা কেনার কথা ছিল। সরবরাহে বিলম্ব হলেও ২০২৪ সালের নভেম্বরে আর্মেনিয়া প্রথম আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি গ্রহণ করে। এতে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক ও একটি রাজেন্দ্র রাডার ছিল। পরে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে দ্বিতীয় চালান সরবরাহের খবর পাওয়া যায়।
অন্যদিকে তাজিকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সামরিক সহযোগিতার শুরু ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে। দেশটির আইনি বিমানঘাঁটি সংস্কারে ভারত সহায়তা করেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে তাজিকিস্তান রাশিয়ার দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে। ঘাঁটিতে ভারতীয় সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের পরিকল্পনাও আর এগোয়নি। পরিবর্তে রুশ বাহিনীকে ঘাঁটিটি ব্যবহারের সুযোগ দিতে মস্কোর সঙ্গে চুক্তি করে দুশানবে। এ ছাড়া আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে ফারখোর বিমানঘাঁটিতে ভারতের প্রবেশাধিকার ছিল, যদিও সেখানে দেশটির স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি ছিল না। আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা রপ্তানির আগ পর্যন্ত তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের কাছে ভারতের কোনো প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্য এশিয়ায় ভারতের তৈরি একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সরবরাহ এ অঞ্চলের সামরিক শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনবে না। তবে এটি রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী খোঁজার ক্ষেত্রে আঞ্চলিক দেশগুলোর আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের তৈরি অস্ত্র ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা একসঙ্গে পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে, ভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা বা ইন্টারঅপারেবিলিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।