অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞায় পর্যটক শূন্য সাজেক
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
দুই আঞ্চলিক সংগঠনের ডাকা সড়ক অবরোধ, পর্যটকদের উপর হামলা ও গোলাগুলির ঘটনাসহ সাজেক চলেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সাময়িক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। এর ফলে শুক্রবার সকাল থেকেই সাজেক ভ্যালি সম্পূর্ণ পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকালে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের উপর অবরোধকারীদের হামলা ও ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের গুলির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে বন্দুকযুদ্ধ চলে। পরে দুপুর ১টার দিকে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, সাজেকের উজোবাজার এলাকায় সংঘর্ষের পর বর্তমানে পুরো এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তবে এ সংঘর্ষ ও সার্বিক পরিস্থিতির প্রতিবাদে শনিবার রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় অর্ধদিবস সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে ‘ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ’।
এদিকে এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নতুন করে অবনতির আশঙ্কায় পর্যটকদের সুরক্ষায় সাজেক ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। ফলে পর্যটক শূণ্য সাজেক ভ্যালি।
প্রশাসন জানিয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উজো বাজারসহ আশপাশের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর থেকে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা সাজেক যেতে পারছেন না এবং পূর্বে অবস্থানরত পর্যটকরা নিরাপদে ফিরে আসায় সাজেকের সব রিসোর্ট ও কটেজ এখন ফাঁকা রয়েছে। শুক্র ও শনিবার ছুটিতে ব্যাপক বুকিং থাকলেও সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করায় আর্থিক ক্ষতির মুখে ১৩৫টি রিসোর্টের মালিকসহ ব্যবসায়ীরা।
লেখক ও সংস্কৃতি কর্মী শিশির চাকমা বলেন, অবরোধকারী বলছে জেএসএস সমস্যা সৃষ্টি করছে, কিন্তু জেএসএস অস্বীকার করছে, তারা তো পরস্পর পরস্পরের বিরুধী কথা বলছে। সাধারণ মানুষ এই ঘটনাগুলো বিরাজিত থাকুক সেটি চায় না।
পর্যটন উদ্যোক্তা মো. ওমর ফারুক বলেন, সাজেকে বিশেষত আঞ্চলিক দলগুলোর আধিপত্য বিস্তারের লড়াই চলছে। সেই লড়াইয়ের ফল হিসেবে সাজেকের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলোর উপর খুবই সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
রাঙামাটি প্রেসক্লাব সভাপতি মো. আনোয়ারুল হক আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে লড়াইটা হচ্ছে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই। পার্বত্য চট্টগ্রামের যে কয়েকটি আঞ্চলিক সংগঠন আছে তারা একেকটা দল একেক জায়গায় আধিপত্য বিস্তার করে থাকে। সাজেকে দুই দলের আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বেই মূলত এই লড়াইটা হচ্ছে। এখন জনগণ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, পর্যটন শিল্প বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।