নাফ নদীতে বিজিবি-এসআরবির যৌথ অভিযান, ১ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৪
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
কক্সবাজারের টেকনাফে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও এসআরবির যৌথ অভিযানে ১ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। এ সময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দের পাশাপাশি চারজনকে আটক করা হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
আটক ব্যক্তিরা হলেন টেকনাফ পৌরসভার উত্তর জালিয়াপাড়া এলাকার আঃ খালেক (২৫) ও নূর ফয়সার (২৫), টেকনাফ পুরাতন পল্লানপাড়া এলাকার মিজানুর রহমান (২৪) এবং ১৪ নম্বর এফডিএমএন ক্যাম্পের ব্লক-বি/৩ এলাকার হাফেজ আহম্মদ (২৯)।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, রোববার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২ বিজিবির আওতাধীন টেকনাফ সদর নাজিরপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ আলুগোলা পোস্টসংলগ্ন নাফ নদী দিয়ে মিয়ানমারের মংডু খাল থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশের তথ্য পাওয়া যায়। এ তথ্যের ভিত্তিতে নাজিরপাড়া ও সাবরাং বিওপির টহল দল নাফ নদীর সম্ভাব্য প্রবেশপথগুলোতে কৌশলগত অবস্থান নেয়। পরে যৌথ আভিযানিক দল নদীতে অভিযান শুরু করে।
অভিযানের একপর্যায়ে বিএসপি পোস্ট থেকে আনুমানিক ৩০০ মিটার পূর্বে এবং শূন্যরেখা থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রায় ২০০ মিটার দূরে একটি সন্দেহজনক ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকার গতিবিধি দেখতে পায় যৌথ আভিযানিক দল। পরে নৌকাটি আটক করে তল্লাশি চালানো হলে এর চার আরোহীকে আটক করা হয়।
বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানকারী দলের উপস্থিতি টের পেয়ে নৌকায় থাকা ব্যক্তিরা ইয়াবার চালান নদীতে ফেলে দেন। পরে যৌথ আভিযানিক দল নাফ নদীর ওই এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে পানিতে ভাসমান অবস্থায় ফেলে দেওয়া ইয়াবাগুলো উদ্ধার করে। অভিযান শেষে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জব্দ করা ইয়াবা ও অন্যান্য আলামতের বিষয়ে এসআরবির পক্ষ থেকে নিয়মিত মামলা দায়ের করে তাঁদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে নাফ নদী ও সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবির টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, মানব পাচারসহ সব ধরনের সীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পণ্য ও মাদকদ্রব্যের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নাফ নদীকে ব্যবহার করে মিয়ানমার থেকে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা দীর্ঘদিনের। এসব চোরাচালান বন্ধে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।