হাসপাতালে নেয়ার পথে সেনাবাহিনীর চলন্ত পিকআপে কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন পাহাড়ি নারী
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
দুর্গম পাহাড়ি পথে সেনাবাহিনীর গাড়িতে করে হাসপাতালে নেওয়ার সময় চলন্ত পিকআপ ভ্যানেই কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক পাহাড়ি প্রসূতি নারী। সংকটময় মুহূর্তে সেনাসদস্যদের দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা ও মানবিক সহযোগিতায় মা ও নবজাতক দুজনই নিরাপদে হাসপাতালে পৌঁছেছেন। বর্তমানে তাঁরা সুস্থ রয়েছেন।
গতকাল রবিবার (১ নভেম্বর) পার্বত্য জেলা বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম সুংসুং পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
ওই পাড়ার বাসিন্দা লাল হুনের ৩০ বছর বয়সী স্ত্রী সেদিন সকাল থেকেই প্রসববেদনায় ভুগছিলেন। স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব করতে না পারায় সন্ধ্যার দিকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হয়ে উঠলে পাড়ার কারবারী সহায়তার জন্য নিকটস্থ সুংসুং পাড়া সেনাক্যাম্পে ছুটে যান।
খবর পাওয়ার পর আর সময় নষ্ট করেননি সেনাসদস্যরা। সেনাবাহিনীর ১৬ ইস্ট বেঙ্গলের (দি ম্যাজেস্টিক টাইগার্স) সুংসুং পাড়া ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন ইনকিয়াতের নেতৃত্বে দুটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে একটি সেনাদল দ্রুত প্রসূতিকে উদ্ধারে বের হয়। তাঁদের লক্ষ্য ছিল দুর্গম পথ পেরিয়ে দ্রুত তাঁকে রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে দেওয়া।
কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে মুনলাই পাড়ার প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্বে পৌঁছালে প্রসূতির তীব্র প্রসববেদনা শুরু হয়। এমন সংকটময় মুহূর্তে সেনাসদস্যরা দ্রুত পিকআপ ভ্যানটি রাস্তার পাশে নিরাপদ স্থানে থামিয়ে সাময়িকভাবে প্রসবের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করেন। প্রসূতির পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় এক ধাত্রীর সহযোগিতায় সেনাবাহিনীর চলন্ত পিকআপ ভ্যানেই জন্ম নেয় ফুটফুটে এক কন্যাসন্তান।
সন্তান জন্মের পরও সেনাসদস্যরা দায়িত্ব শেষ করেননি। মা ও নবজাতককে প্রয়োজনীয় সতর্কতার সঙ্গে দ্রুত রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান তাঁরা। বর্তমানে মা ও শিশু দুজনই সুস্থ ও নিরাপদে রয়েছেন বলে সেনাবাহিনীর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জরুরি চিকিৎসাসেবা পাওয়া অনেক সময়ই কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে প্রসবজনিত জটিলতায় দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব না হলে মা ও নবজাতকের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এমন বাস্তবতায় সংকটের মুহূর্তে সেনাবাহিনীর দ্রুত সাড়া, উদ্ধার তৎপরতা এবং প্রসূতির পাশে দাঁড়ানোর ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। নবজাতকের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা সেনাসদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
পাহাড়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি দুর্গম জনপদের মানুষের জরুরি প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোর এমন উদ্যোগ মানবিক সহায়তার গুরুত্বও তুলে ধরেছে। একটি পরিবারের জন্য নতুন অতিথির আগমনকে আনন্দময় করে তুলতে সংকটের মুহূর্তে সেনাসদস্যদের এই সহযোগিতা স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সেনাবাহিনীর আস্থার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জাতিগোষ্ঠীর শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও মানবিক কল্যাণে তাদের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।