পাহাড়ের সমস্যাকে রাজনৈতিক ভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পাহাড়ের পাহাড়ের যে সমস্যা এটি রাজনৈতিক সমস্যা। সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক দলগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। বর্তমান সরকার যতেষ্ট আন্তরিক ভাবে কাজ করছে। দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩০৫ পদাতিক ব্রিগেড ও রাঙামাটি রিজিয়নের বিদায়ী রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক।
তিনি বলেন, রাঙামাটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি পাহাড়ে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রীতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী।
তিনি আরও বলেন, গত ২০ মাসের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা পেয়েছি। যার ফলে রাঙামাটিতে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উস্কানি বা শান্তি-সম্প্রীতি বিনষ্টকারী ঘটনা ঘটতে পারেনি।
রাঙমাটি রিজিয়ন কমান্ডারের বিদায় এবং নবাগত রিজিয়ন কমান্ডারের আগমন উপলক্ষে সোমবার এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
বিকেলে রাঙমাটি রিজিয়নের আয়োজনে সেনাবাহিনী রিজিয়নের ‘প্রান্তিক’ হলরুমে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি রিজিয়নের বিদায়ী রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক এবং নবাগত রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমতিয়াজ মাহমুদ।
মতবিনিময় সভায় বিদায়ী রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক, দায়িত্ব পালনকালে সহযোগিতার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং নবাগত রিজিয়ন কমান্ডারকেও একইভাবে সহায়তা করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরী। কাপ্তাই হ্রদের মাছ, আনারস ও পেপার মিলের মতো স্থানীয় সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি গার্মেন্টস, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে। মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত হলে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়ানোর প্রবণতাও কমবে। নিজেদের মধ্যে বিভেদ দূর করতে পারলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবার আগে দেশকে রাখতে হবে।
নবাগত রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমতিয়াজ মাহমুদ বলেন, ‘সেনাজীবনের শুরুর দিকেই পার্বত্য চট্টগ্রামে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল আমার। সেই অভিজ্ঞতা নতুন দায়িত্বে বেশ সহায়ক হবে। পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি ও অগ্রযাত্রায় কাজ করতে তিনি সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।’

এসময়, রাঙামাটি এলাকার মানুষের সংস্কৃতি, আশা-কাঙ্ক্ষা, উন্নয়ন এবং এর সাথে জড়িত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জসমূহ নিয়ে তিনি তার অভিজ্ঞতার কথা ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, রাঙামাটিতে অগ্রযাত্রা, উন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শান্তি ও সম্প্রীতির যে আবহ তিনি লক্ষ্য করেছেন, তা প্রশংসনীয়। বর্তমান সময়ে রাঙামাটি পার্বত্য অঞ্চলের জন্য একটি শান্তির মডেল হয়ে উঠতে পারে এবং এই অগ্রযাত্রা ও উন্নয়নের কৃতিত্ব এখানকার সকলের।
এ সময় জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দিপু, রাঙ্গামাটি সদর জোন কমান্ডার একরামুল রাহাত, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এড. মামুনুর রশীদ মামুন, জেলা জামায়াতের আমির মো: আব্দুল আলীম, প্রেস ক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক, সাধারন সম্পাদক মুহম্মদ ইলিয়াছ, সাংবাদিক ফোরাম সভাপতি ও দৈনিক গিরিদর্পণ সম্পাদক নন্দন দেবনাথ, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য হাবীব আজমসহ বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।