‘জ্বলছে মণিপুর’, দীর্ঘস্থায়ী জাতিগত সংকটের জন্য বিজেপিকে দায়ী করল কংগ্রেস
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
ভারতের মণিপুর রাজ্যে দীর্ঘস্থায়ী জাতিগত সংঘাত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য ক্ষমতাসীন বিজেপিকে দায়ী করেছে বিরোধী দল কংগ্রেস। দলটির অভিযোগ, বিজেপি সরকারের ‘চরম উদাসীনতা’ ও ‘ব্যাপক অদক্ষতা’ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী রাজ্যটিকে আরও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) মণিপুর প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (এমপিসিসি) জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এসব অভিযোগ করেন। বৈঠকে রাজ্যের অবনতিশীল পরিস্থিতি এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী, দলের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে সি বেণুগোপাল, মণিপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত এআইসিসি নেতা সপ্তগিরি উলাকা, মণিপুরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি ইবোবি সিং এবং কংগ্রেস বিধানসভা দলের নেতা কে মেঘচন্দ্রসহ অন্যান্য নেতারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে খাড়গে অভিযোগ করেন, মণিপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য বিজেপি নেতৃত্ব কোনো দায়দায়িত্ব নিচ্ছে না। সংকট যত গভীর হচ্ছে, ক্ষমতাসীন দল ততই জবাবদিহি এড়িয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
খাড়গে বলেন, মণিপুরের মানুষ শান্তি, স্থিতিশীলতা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রাখে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাজ্যে বিজেপির শাসনের অবসান ঘটিয়ে শান্তি, পুনর্মিলন ও উন্নয়ন ফিরিয়ে আনতে কংগ্রেস কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালও বিজেপির সমালোচনা করেন। রোববার নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সমাবেশে যে ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে, তা বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষের প্রতিফলন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে মণিপুর ও উত্তরাখণ্ডের পরিস্থিতির কথাও উঠে আসে।
এক্সে দেওয়া পোস্টে বেণুগোপাল বলেন, “ঘৃণা, লুটপাট, জমি দখল এবং সম্পূর্ণ অপশাসন—এসবই রাজ্যগুলোতে বিজেপির ‘ট্রাবল ইঞ্জিন’ মডেলের প্রতীক।”
মণিপুরের চলমান জাতিগত উত্তেজনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, রাজ্যটি এখনো সংঘাতের ক্ষত বহন করছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মণিপুরের দুটি আসনেই ভোটাররা বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে, কংগ্রেস নেতাদের এসব বক্তব্যের মধ্যেই মণিপুরের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার রাতে কাংপোকপি জেলার কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে এবং গাছের গুঁড়ি ও বড় পাথর ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে পুলিশ কয়েকটি সড়ক থেকে অবরোধ সরিয়ে দেয়।
সম্প্রতি নিখোঁজ হওয়া দুই যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধারের পর এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার সকালে সেনাপতি জেলার একটি পাহাড়ি এলাকা থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত দুই যুবক পাউগিনলাল হাংসিং ও থাঙ্গিনলুন চংলোই বলে জানা গেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে তামেংলং, নোনে, কামজং, উখরুল ও কাংপোকপি জেলায় ৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং কয়েক ডজন বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব সংঘাতের পেছনে রয়েছে মণিপুরের বৃহত্তর জাতিগত বিরোধ। ২০২৩ সালের মে মাসে ইম্ফল উপত্যকাকেন্দ্রিক মেইতেই সম্প্রদায় এবং পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি জেলাগুলোতে বসবাসকারী কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে এ সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘস্থায়ী ওই সংঘাতে ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত, ৪৯ জন নিখোঁজ এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
আগামী বছরের শুরুর দিকে মণিপুরে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের চলমান আইনশৃঙ্খলা সংকটকে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে কংগ্রেস। দলটির লক্ষ্য, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার প্রশ্নে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি সামনে এনে নির্বাচনী লড়াইয়ে এগিয়ে যাওয়া।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।