দুর্গম পাহাড়ে উন্নয়ন, যোগাযোগ ও মানবিকতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে ২৬ ইসিবি

দুর্গম পাহাড়ে উন্নয়ন, যোগাযোগ ও মানবিকতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে ২৬ ইসিবি

দুর্গম পাহাড়ে উন্নয়ন, যোগাযোগ ও মানবিকতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে ২৬ ইসিবি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

সীমান্ত সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও জনকল্যাণে সেনাবাহিনীর বহুমুখী উদ্যোগ

জার্নাল প্রতিবেদক

দুর্গম পাহাড়ি জনপদে সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার প্রসার এবং স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীনস্থ ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (২৬ ইসিবি)। প্রতিকূল পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, বৈরী আবহাওয়া, ভূমিধস ও নানা প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে ব্যাটালিয়নটি।

বিশেষ করে রাঙামাটির রাজস্থলী, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ির মতো দুর্গম এলাকায় সড়ক যোগাযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি সীমান্ত সড়ক ও সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পগুলোর অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে ২৬ ইসিবি। এসব উদ্যোগের ফলে একদিকে দুর্গম পাহাড়ি জনপদের সঙ্গে দেশের অন্যান্য এলাকার যোগাযোগ সহজ হচ্ছে, অন্যদিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলাচল ও দায়িত্ব পালন আরও সহজ হচ্ছে। সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপস্থিতি জোরদার করার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সেতু, কালভার্ট, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াতের পথ সুগম হওয়ার পাশাপাশি ভূমিধস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও নানা সীমাবদ্ধতায় থাকা জনপদগুলোকে উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করার ক্ষেত্রে এসব কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

দুর্গম পাহাড়ে উন্নয়ন, যোগাযোগ ও মানবিকতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে ২৬ ইসিবি

সীমান্ত সড়ক নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প

৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীনে ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন ২০১৬ সালে রাজস্থলী প্রকল্প ক্যাম্প স্থাপন করে। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ৩ জুলাই সীমান্ত সড়ক (রাজস্থলী-দুমদুমিয়া-ফারুয়া-বিলাইছড়ি-সাইচল-বড়খলি-থেগামুখ) নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।

দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, প্রতিকূল আবহাওয়া, ভূমিধস, খাড়া পাহাড় ও নানা প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে প্রকৌশল সদস্যরা এ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। দীর্ঘ এই সড়ক নির্মাণ শুধু যোগাযোগ অবকাঠামো তৈরির প্রকল্প নয়; বরং সীমান্তবর্তী জনপদকে সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আনা, স্থানীয় মানুষের যাতায়াত সহজ করা এবং দেশের সীমান্ত এলাকায় যোগাযোগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

সীমান্ত প্রকল্পের আওতায় ‘রাজস্থলী-দুমদুমিয়া-থাচ্চি-লইতংপাড়া-থেগামুখ’ শীর্ষক ১৩০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর প্রথম পর্যায়ে ইতোমধ্যে ৭৬ কিলোমিটার ফ্লেক্সিবল পেভমেন্টের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে দ্বিতীয় পর্যায়ে বগাখালী থেকে করল্লাছড়ি পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ে করল্লাছড়ি থেকে যেসামুখ পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হবে এবং নতুন করে অদয়াবাব থেকে থালিপাড়া পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ শিগগিরই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রকল্পের এসব কাজ সম্পন্ন হলে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে আরও বিস্তৃত ও নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করা, জরুরি প্রয়োজনে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ এবং শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা বাহিনীর চলাচল ও প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহের ক্ষেত্রেও এ সড়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

যোগাযোগের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক অবকাঠামো

সড়ক নির্মাণের বাইরেও স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে ২৬ ইসিবি। এসব কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দুর্গম এলাকায় তিনটি যাত্রী ছাউনি, চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বিভিন্ন স্থানে নয়টি পানির পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ৭০ হাজার ৬৮০টি ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যাত্রী ছাউনি স্থাপনের ফলে যাতায়াতকারী মানুষের বিশ্রামের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে পানির পয়েন্ট স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের সুপেয় পানির সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমও স্থানীয় জনপদের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখছে।

দুর্গম পাহাড়ে উন্নয়ন, যোগাযোগ ও মানবিকতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে ২৬ ইসিবি

বৌদ্ধ বিহার সংস্কারে আট বান টিন অনুদান

জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় গত ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে বিলাইছড়ি উপজেলার সাইচল প্রকল্প ক্যাম্পসংলগ্ন গাছবাগান পাড়ার একটি বৌদ্ধ বিহার সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের কাজে সহায়তা দিয়েছে ২৬ ইসিবি। বিহারটির সংস্কারকাজের জন্য মোট আট বান ঢেউটিন অনুদান হিসেবে প্রদান করা হয়।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও রীতিনীতি পালনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে এ সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে এ ধরনের সহযোগিতা স্থানীয় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের পাশে সেনাবাহিনী, শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে সহায়তা

দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে থুমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে ২৬ ইসিবি। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ইউনিফর্মসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষকের বেতন-ভাতার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছে ব্যাটালিয়নটি।

শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চালু রাখা এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্গম এলাকায় শিক্ষক সংকট ও শিক্ষা উপকরণের সীমাবদ্ধতার মধ্যে এ ধরনের সহযোগিতা বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে সহায়ক হচ্ছে।

শুধু শ্রেণিকক্ষের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে ২৬ ইসিবির কার্যক্রমে। থুমপাড়ায় আগে কোনো খেলার মাঠ না থাকায় এলাকার কোমলমতি শিশুরা নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। পরে ২৬ ইসিবির উদ্যোগে সেখানে একটি খেলার মাঠ তৈরি করা হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ পাচ্ছে।

বগাখালী বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল, ফ্যান ও ক্রীড়া সামগ্রী

একইভাবে বগাখালী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নেও সহায়তা করেছে ২৬ ইসিবি। বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনের পাশাপাশি চারটি ফ্যান দেওয়া হয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ সুবিধার সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পাঠদান কার্যক্রম আরও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পরিচালনা করা যায়।

এছাড়া বিদ্যালয়ের মাঠ তৈরিতে সহায়তা, শিক্ষার্থীদের মাঝে জার্সি বিতরণ এবং বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ছে।

দুর্গম পাহাড়ে উন্নয়ন, যোগাযোগ ও মানবিকতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে ২৬ ইসিবি

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে আগে তাদের বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাব ছিল। বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, সৌরবিদ্যুৎ ও ফ্যানসহ বিভিন্ন সুবিধা তৈরি হয়েছে। এসব সহায়তার জন্য তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছে। তাদের বিশ্বাস, এ ধরনের ইতিবাচক কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলও একটি সমৃদ্ধ জনপদে রূপান্তরিত হবে।

সড়ক নির্মাণে বদলে যাচ্ছে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা

সীমান্ত সড়ক নির্মাণের ফলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা। থুমপাড়া কার্বারী বলেন, “আমরা আগে কোনো দিন রাজস্থলী, চন্দ্রঘোনা কিংবা চট্টগ্রামে যেতে পারিনি। বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশাল কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে সীমান্ত সড়ক নির্মাণ করছে। এ সড়কের কারণে আমাদের যাতায়াত সহজ হয়েছে। এখন আমরা উৎপাদিত কলা, হলুদ, আদাসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য চট্টগ্রাম ও রাঙ্গুনিয়ায় সরবরাহ করতে পারছি।”

তিনি আরও জানান, আগে যোগাযোগের অসুবিধার কারণে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হতো। সড়ক যোগাযোগ উন্নত হওয়ায় এখন উৎপাদিত পণ্য বাইরে নিয়ে বিক্রি করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে স্থানীয় মানুষের আয় ও জীবিকার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে।

জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসায় মানবিক সহায়তা

অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি দুর্গম এলাকার অসুস্থ মানুষের চিকিৎসাসেবায়ও সহযোগিতা করে আসছে ২৬ ইসিবি। থুমপাড়া কার্বারী জানান, তাঁর এলাকায় এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। বিষয়টি সাইচল ক্যাম্পের অধিনায়ককে জানানো হলে ২৬ ইসিবির জোন অধিনায়কের নির্দেশনায় উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

তিনি জানান, ২৬ ইসিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মাসুদের নির্দেশনায় ওই রোগীকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকা সিএমএইচে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে তাঁর চিকিৎসা, ওষুধ এবং বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ওই ব্যক্তি বর্তমানে পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন বলে জানান কার্বারী।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জরুরি চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া যেখানে বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে একজন জটিল রোগীর উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার এ উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের কাছে মানবিক সহায়তার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

এছাড়া দুর্গম থুমপাড়া এলাকায় নারী, পুরুষ ও শিশুদের জন্য চিকিৎসাসেবা এবং ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

দুর্গম পাহাড়ে উন্নয়ন, যোগাযোগ ও মানবিকতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে ২৬ ইসিবি

উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় সমন্বিত ভূমিকা

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকায় সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলাচল ও দায়িত্ব পালন সহজ হচ্ছে। একই সঙ্গে আগে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় যেসব সীমাবদ্ধতা ছিল, সেগুলোও ধীরে ধীরে কমার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সড়কের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সেতু, কালভার্ট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের ফলে যোগাযোগ অবকাঠামোর স্থায়িত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২৬ ইসিবির কার্যক্রমের বিশেষ দিক হলো, তারা শুধু সড়ক নির্মাণেই নিজেদের কাজ সীমাবদ্ধ রাখেনি। বরং সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, সুপেয় পানি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, পরিবেশ সংরক্ষণ, খেলাধুলা ও কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে সহায়ক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। ফলে দুর্গম এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার ফলে দুর্গম পাহাড়ি জনপদের সঙ্গে বাইরের এলাকার যোগাযোগ বাড়ছে। শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার সুযোগ সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ সহজ হচ্ছে। এসব উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে পাহাড়ের প্রত্যন্ত জনপদগুলোতে আর্থসামাজিক উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে।

সব মিলিয়ে ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (২৬ ইসিবি) প্রকৌশলগত সক্ষমতার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে বহুমুখী ভূমিকা পালন করছে। সীমান্ত সড়ক নির্মাণ থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সহায়তা, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, চিকিৎসাসেবা ও পরিবেশ সংরক্ষণ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের কার্যক্রম স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখছে। দুর্গম পাহাড়কে যোগাযোগ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় যুক্ত করার এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে পার্বত্য অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি সম্ভব হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *