জন্মদাতা বাবা-মা’কে খুঁজতে কক্সবাজারে নেদারল্যান্ডসের নাগরিক সেলিনা
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
দেড় বছর বয়সে পালক পরিবারের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসে চলে গিয়েছিলেন সেলিনা গোমেজ। এর পর কেটে গেছে প্রায় ৪৪ বছর। জন্মস্থানের কোনো স্মৃতিই তার প্রায় মনে নেই। তবে পুরোনো কাগজপত্রে পাওয়া নাম ও জন্মস্থানের সূত্র ধরে জন্মদাতা বাবা-মা ও স্বজনদের খুঁজতে তিনি এসেছেন বাংলাদেশে। কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারার মালুমঘাটে তার জন্ম।
৪৫ বছর বয়সী সেলিনা এখন নেদারল্যান্ডসের নাগরিক। জন্মদাতা পরিবারের খোঁজে তিনি কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরছেন এবং সম্ভাব্য এলাকাগুলোতে লিফলেট বিতরণ করছেন। তার আশা, দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হবে এবং একদিন তিনি পরিবারের সন্ধান পাবেন।
সেলিনার ভ্রমণসহযোগী রাশেল আলম জানান, সেলিনা প্রথম বাংলাদেশে আসেন প্রায় সাত-আট বছর আগে। এর পর কয়েকবার এসেছেন। সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশে পৌঁছান ২৮ অক্টোবর। এক পরিচিতের মাধ্যমে সেলিনার সঙ্গে রাশেলের পরিচয় হয়। তখন থেকেই তিনি জন্মদাতা পরিবারের খোঁজে সহযোগিতা করছেন।
সেলিনার কাছে থাকা কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে শৈশবের একটি সাদাকালো ছবি এবং নেদারল্যান্ডসে যাওয়ার সময় ব্যবহৃত পাসপোর্টের ফটোকপি। পাসপোর্টে তার জন্ম তারিখ ৭ জুলাই ১৯৮১ ও জাতীয়তা বাংলাদেশি লেখা রয়েছে। পরিবারের সন্ধানে এসব কাগজই এখন তার প্রধান ভরসা।
সেলিনা বলেন, ‘‘আমি আমার বাবা-মাকে খুঁজছি। তাদের খুব মিস করি। আমি তাদের মনে করতে পারি না। তবে জানি, আমার মায়ের নাম হেলেনা গোমেজ ও বাবার নাম বেনেডি গোমেজ। নেদারল্যান্ডসে আমি একা অনুভব করি। আশা করি, বাবা-মাসহ আমার পরিবারকে খুঁজে পাব।’’
জন্ম ও দত্তক নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমি জেনেছি, মালুমঘাটে আমার জন্ম। দেড় বছর বয়সে এক নারী আমাকে ঢাকায় নিয়ে যান। সেখান থেকে একটি ডাচ পরিবার আমাকে দত্তক নিয়ে নেদারল্যান্ডসে নিয়ে যায়। আমি সেই পরিবারে যত্ন ও ভালোবাসায় বড় হয়েছি।’’
রাশেল আলম বলেন, ‘‘সেলিনা আরও ১০ থেকে ১৫ দিন বাংলাদেশে থাকবেন। এখন তিনি কক্সবাজারে আছেন। আমরা একসঙ্গে তার পরিবারের খোঁজ চালিয়ে যাব।’’
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।