ঢাকায় পৌঁছেছে করোনার ২০ লাখ ডোজ টিকা, আনুষ্ঠানিক ভাবে হস্তান্তর
![]()
নিউজ ডেস্ক
ঢাকায় পৌঁছেছে করোনাভাইরাসের ২০ লাখ ডোজ টিকা। ১৬৭টি বক্সে ভারত সরকারের উপহারের টিকাবাহী এয়ার ইন্ডিয়ার বিশেষ ফ্লাইট আজ বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দুপুর দেড়টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে টিকাগুলো হস্তান্তর করা হয়। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী আনুষ্ঠানিকভাবে টিকাগুলো হস্তান্তর করেন। এসময় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ সরকারের দায়িত্বশীল অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আজ একটি ঐতিহাসিক দিন, আজ আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত সরকার আমাদের ২০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন উপহার দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এখন বিনা মূল্যে ভ্যাকসিন দিল। চুক্তির ভ্যাকসিনও ঠিক সময় আসবে। অনেক উন্নত দেশ এখনো ভ্যাকসিন পায়নি, দেয়া শুরু করেনি। সেখানে আমরা আগে ভ্যাকসিন পেলাম, সেজন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ। ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতির ফলেই এই উপহার দেয়া হয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশনার। ভারত-বাংলাদেশ একসাথে এই মহামারী মোকাবেলা করবে। এতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরো মজবুত হবে।’
এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক বলেন, ‘আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ভ্যাকসিন দেশে এসেছে। আমরা সবাই খুবই আনন্দিত, আমাদের হাতে ২০ লাখ ভ্যাকসিন এসে পৌঁছেছে। সেই ভ্যাকসিন স্টোরে রাখা হয়েছে। আজ প্রমাণ হলো বন্ধু রাষ্ট্র একে অপরকে সাহায্য করে। যুদ্ধের সময় ভারত আমাদের সাহায্য করেছে, এখন মহামারিতেও ভ্যাকসিন দিযে সাহায্য করলো। দুই রাষ্ট্রের বন্ধুত্বের প্রমাণ রাখলো এ ভ্যাকসিন। তিনি আরও বলেন, যেকোন দুর্যোগ আমরা একসাথে মোকাবেলা করবো। তিন কোটি ভ্যাকসিন চুক্তি তাড়াতাড়ি বাস্তবায়ন হবে আশা করছি। ভারত সরকারকে অনুরোধ করবো তাড়াতাড়ি যেনো সেটি বাস্তবায়িত হয়। ৭০ লাখ ভ্যাকসিন এ মাসে আমাদের হাতে থাকবে। ভারত সরকারকে ধন্যবাদ। উপহারের এই টিকা আসার পর বিভিন্ন পর্যায়ের ২০-২৫ জনকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হবে। এরপর হবে মহড়া। এর ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সময়ে সারা দেশে টিকা দেওয়া হবে। অবশ্য এসব প্রক্রিয়া কবে থেকে শুরু করা হবে তা জানানো হয়নি। এ ছাড়া অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে দেশের প্রায় আট কোটি মানুষ টিকা নিতে পারবে না।