উখরুলে নতুন করে সহিংসতা, পাঁচ দিনের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ করল মণিপুর সরকার

উখরুলে নতুন করে সহিংসতা, পাঁচ দিনের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ করল মণিপুর সরকার

উখরুলে নতুন করে সহিংসতা, পাঁচ দিনের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ করল মণিপুর সরকার
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতের মণিপুরের উখরুল জেলায় নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় পাঁচ দিনের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করেছে রাজ্য সরকার। আজ মঙ্গলবার লিতান এলাকায় ফের অগ্নিসংযোগ ও গোলাগুলির ঘটনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে রোববারের সহিংসতায় অন্তত ২৫টি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়, যার জেরে জেলায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, লিতান ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে নতুন করে অগ্নিসংযোগ ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। রোববারের সহিংসতার ধারাবাহিকতায় এ উত্তেজনা ছড়িয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের। সাম্প্রতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সঠিক সংখ্যা এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। তবে সহিংসতার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার সকাল থেকেই লিতান ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কায় ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে শুরু করেন।

রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের জারি করা আদেশে বলা হয়, ‘প্রতিরোধমূলক ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিট থেকে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ কার্যকর হয়েছে। আদেশে উল্লেখ করা হয়, উখরুল জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থির থাকায় আশঙ্কা রয়েছে, কিছু অসামাজিক উপাদান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে উসকানিমূলক ছবি, পোস্ট ও ভিডিও ছড়িয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে পারে। এতে জনজীবন, সম্পদ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

পুলিশ জানায়, রোববারের সহিংসতার সূত্রপাত হয় ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় লিতান সারেইখং এলাকায় মদ্যপ অবস্থায় হওয়া একটি ঝগড়া থেকে। ওই ঘটনায় স্টার্লিং নামে এক তাংখুল নাগা যুবক মারধরের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগ। ইম্ফল-উখরুল সড়কের পাশে অবস্থিত ছোট বাণিজ্যিক শহর লিতানে তাংখুল নাগা ও কুকি—উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোববার রাতেই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেন এবং রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। কারফিউ আদেশে বলা হয়, তাংখুল ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কায় মানুষের জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

উত্তেজনা প্রশমনে সোমবার উভয় পক্ষের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী লোসি দিখো। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং শান্তি ফেরাতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।