ভারতের মণিপুরে ফের সহিংসতা, কারফিউ জারি ও ইন্টারনেট বন্ধ
![]()
নিউজ ডেস্ক
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন কারফিউ জারি ও ইন্টারনেট সেবা স্থগিত করেছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনায় কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং বহু গ্রামবাসী বাস্তুচ্যুত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শান্তি ফেরাতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে, উখরুল জেলার লিতান সারেইখং গ্রামে টাংখুল নাগা সম্প্রদায়ের এক সদস্যকে মারধরের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনার সূত্রপাত। পরবর্তীতে তা ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়। এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “পরিস্থিতি এখনও অস্থির। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিধান লাইশ্রমের মতে, সাম্প্রতিক সহিংসতা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির ধারাবাহিক ফল। তার ভাষায়, “মণিপুর সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে নিয়ন্ত্রণহীন পরিচয় রাজনীতি, যা সহাবস্থানের ইতিহাস দিয়ে সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।”
পেছনের কারণ
২০২৩ সালের মে মাসে মণিপুরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ-অভিমান সহিংসতায় রূপ নেয়। ইম্ফল উপত্যকায় বসবাসকারী সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেইরা তফসিলি জনজাতি (এসটি) মর্যাদা দাবি করলে পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী কুকিরা আশঙ্কা প্রকাশ করে যে এতে তারা আরও প্রান্তিক হয়ে পড়বে। ওই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২৬০ জন নিহত এবং ৬০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
ইম্ফল রিভিউ অব আর্টস অ্যান্ড পলিটিকসের সম্পাদক প্রদীপ ফাঞ্জৌবাম বলেন, এটি শুধু মেইতেই ও কুকিদের দ্বন্দ্ব নয়; নাগাসহ সব জাতিগোষ্ঠীকেই আলোচনায় আনতে হবে। “প্রত্যেক পক্ষকে স্বীকার করতে হবে যে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—সেই স্বীকৃতি থেকেই শুরু হতে পারে আরোগ্যের পথ,” বলেন তিনি।

প্রেসিডেন্টস রুল ও নতুন সরকার
সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় সরকার আবারও মণিপুরে প্রেসিডেন্টস রুল জারি করে। তবে প্রত্যাশিত স্থিতিশীলতা পুরোপুরি ফেরেনি। সম্প্রতি প্রেসিডেন্টস রুল প্রত্যাহার করে নতুন নির্বাচিত সরকার গঠন করা হয়েছে। মেইতেই সম্প্রদায়ের ইউম্নাম খেমচাঁদ সিং মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। পাশাপাশি কুকি ও নাগা সম্প্রদায় থেকে দু’জনকে উপমুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছে, যা ক্ষমতা ভাগাভাগির বার্তা দেয়।
তবে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যালার্টের পরিচালক বাবলু লোইতোংবাম মনে করেন, উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া সমাধান দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হয় না। তার মতে, “টেকসই শান্তি তখনই আসবে, যখন ক্ষতিগ্রস্ত সব সম্প্রদায় সত্যিকারের সংলাপে অংশ নেবে।”

স্বায়ত্তশাসনের দাবি
এদিকে কুকি-জো কাউন্সিল পৃথক স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গঠনের দাবি জানিয়েছে। কুকি ইনপি মণিপুরের সভাপতি আজাং খংসাই বলেন, “কুকিদের জন্য স্বায়ত্তশাসন কোনো দরকষাকষির বিষয় নয়; এটি মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সমতার পূর্বশর্ত।”
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কার্যকর রাজনৈতিক সমাধান না এলে মণিপুরে মাঝেমধ্যে সহিংসতার বিস্ফোরণ ও অনিশ্চিত শান্তির দোলাচল চলতেই পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিরপেক্ষ মধ্যস্থতায় আন্তরিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপই কেবল সহিংসতার চক্র ভাঙতে পারে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।